খালেদা জিয়ার ৩ আসনে কারা বিএনপির প্রার্থী হবেন, জানালেন সালাহউদ্দিন
প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য নির্ধারিত তিনটি সংসদীয় আসনে কারা দলের প্রার্থী হবেন—এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, খালেদা জিয়ার বিকল্প হিসেবে যারা আগে থেকেই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, মনোনয়ন বৈধ হলে তারাই সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী হবেন।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচন, মনোনয়ন প্রক্রিয়া এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে তিনি দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।
মনোনয়ন বাতিল, তবে নির্বাচন বহাল
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র আইন অনুযায়ী বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। কারণ, মনোনয়ন বৈধতা চূড়ান্ত হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, “যেহেতু মনোনয়ন বৈধ হওয়ার আগেই তিনি আর নেই, তাই তার মনোনয়নপত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে। এই ক্ষেত্রে যারা বিকল্প প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, তাদের মনোনয়ন বৈধ হলে তারাই দলের প্রার্থী হবেন।”
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন স্থগিত বা বাতিল করার বিষয়ে আইনে কোনো সুযোগ নেই। সাধারণত মনোনয়ন চূড়ান্ত ও প্রতীক বরাদ্দের পর এমন ঘটনা ঘটলে নির্বাচন স্থগিতের প্রশ্ন উঠতে পারে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আইনগত জটিলতা নেই।
তিন আসনে কারা বিকল্প প্রার্থী
বিএনপি সূত্র অনুযায়ী, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়া ফেনী-১, বগুড়া-৭ এবং দিনাজপুর-৩—এই তিনটি আসন থেকে প্রার্থী হওয়ার কথা ছিল। তার শারীরিক অসুস্থতার কথা বিবেচনা করে আগেই প্রতিটি আসনে বিকল্প প্রার্থী মনোনীত করা হয়।
ফেনী-১ আসনে বিকল্প প্রার্থী ছিলেন রফিকুল আলম মজনু, বগুড়া-৭ আসনে মোরশেদ আলম এবং দিনাজপুর-৩ আসনে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর নির্বাচন কমিশন যদি এসব মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে, তাহলে তারাই সংশ্লিষ্ট আসনে বিএনপির হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
তারেক রহমানের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মানসিক অবস্থা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রে মানসিক দৃঢ়তা অপরিহার্য। তিনি বলেন, “তারেক রহমান একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাকে শক্ত মনোবলের অধিকারী হতে হবে—এর কোনো বিকল্প নেই। যত শোকই থাকুক, জাতির স্বার্থে তাকে দৃঢ় থাকতে হবে।”
দলের অভ্যন্তরে নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও এই বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক ও আইনি প্রেক্ষাপট
খালেদা জিয়ার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বড় ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নির্বাচন চলাকালে একজন শীর্ষ নেতার প্রার্থিতা বাতিল হওয়া স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে বিএনপি নেতৃত্ব বলছে, তারা পুরো প্রক্রিয়াটি আইন ও নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুসরণ করেই এগোতে চায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিকল্প প্রার্থীর বিধান থাকায় ভোটারদের সামনে দলীয় প্রতিনিধিত্বে শূন্যতা তৈরি হবে না। এতে নির্বাচনী ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং আইনি জটিলতাও এড়ানো সম্ভব হবে।
শেষ কথা
বিএনপির বক্তব্য অনুযায়ী, খালেদা জিয়ার তিন আসনে নির্বাচন ও প্রার্থী নির্ধারণ নিয়ে অনিশ্চয়তার জায়গা নেই। বিকল্প প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ হলেই তারা দলের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকবেন। শোকের আবহের মধ্যেও নির্বাচন ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বার্তাই এতে প্রতিফলিত হয়েছে।
Source: Based on reporting from Somoyer Konthosor
