ট্রাম্পের শান্তি পরিষদে যোগ দিচ্ছেন নেতানিয়াহু
ওয়াশিংটন — সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পরিষদে যোগ দিতে সম্মত হয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বিষয়টি সামনে আসার পর মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতি ও বৈশ্বিক কূটনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শান্তি পরিষদে নেতানিয়াহুর অন্তর্ভুক্তি
ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানায়, শান্তি পরিষদে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই নেতানিয়াহুকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরও জানিয়েছে, তিনি এই উদ্যোগকে “কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ” হিসেবে দেখছেন।
ট্রাম্পের উদ্যোগ কী
‘বোর্ড অব পিস’ ট্রাম্পের একটি প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম, যার উদ্দেশ্য বৈশ্বিক সংঘাত নিরসন, যুদ্ধবিরতি তদারকি এবং পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতা করা। ট্রাম্প দাবি করছেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক কাঠামো—বিশেষ করে জাতিসংঘ—অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে।
ইসরায়েলের দৃষ্টিভঙ্গি
ইসরায়েল মনে করছে, এই পরিষদে যুক্ত হওয়া তাদের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধ, ইরান ইস্যু এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনায় প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দেখছে তেল আবিব।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
নেতানিয়াহুর অংশগ্রহণের খবরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কিছু পশ্চিমা বিশ্লেষক বলছেন, এতে ট্রাম্পের উদ্যোগ আরও দৃশ্যমানতা পাবে। তবে আরব বিশ্বের একাংশ আশঙ্কা করছে, এতে শান্তি উদ্যোগে ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
বিশ্লেষক মন্তব্য
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর যুক্ত হওয়া মূলত রাজনৈতিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ। এটি বাস্তব শান্তি প্রক্রিয়ায় কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে পরিষদের কাঠামো, সদস্যপদ এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির ওপর।
উপসংহার
ট্রাম্পের শান্তি পরিষদে নেতানিয়াহুর যোগদান প্রস্তাবিত উদ্যোগটিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। তবে এটি কার্যকর আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হবে নাকি রাজনৈতিক প্রতীকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে—সে প্রশ্নের উত্তর মিলবে সময়ের সঙ্গে।
