বাংলাদেশকে আবারো ভারতে খেলতে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করছে আইসিসি

ঢাকা — আগামী ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে ভারতের এবং শ্রীলঙ্কার মিশ্র মেয়াদে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ে অংশ নিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রতি আবারও অনুরোধ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। এই অনুরোধ এসেছে এমন এক সময় যখন বাংলাদেশ নিরাপত্তা উদ্বেগ ও চলমান কূটনৈতিক অশান্তির কারণে ভারতে যাওয়া নিয়ে অনিশ্চিত অবস্থান বজায় রেখেছে। 1

ধারণা ও নিরাপত্তা উদ্বেগ

বিসিবি নিরাপত্তা সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেছে, ভারতের মাটিতে খেলতে যাওয়ার ব্যাপারে তারা “আত্মবিশ্বাসী নয়” এবং তাই তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কা বা অন্যান্য ভেন্যুতে সরানোর জন্য আইসিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করেছে। এই অস্থিরতা মূলত একটি বিতর্কের ফল, যেটি শুরু হয় বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)-এ খেলার সুযোগ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরে। এতে দুটি বোর্ডের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং বিসিবি নিরাপত্তার উপর গুরুত্ব দিয়ে মাঠ ছাড়ার সিদ্ধান্তের পক্ষে দাঁড়ায়। 2

আইসিসির অবস্থান

তবে আইসিসির পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে আবারও অনুরোধ জানানো হয়েছে যে, তাদের বিশ্বকাপ ম্যাচগুলো ভারতের ভিন্ন ভেন্যুতে খেলতে রাজি হলে ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে ভারতে অংশগ্রহণ করতে পারে। অভ্যন্তরীণ বৈঠক এবং পরামর্শে এমন একটি পরিকল্পনার কথাও উঠেছে যেখানে চেন্নাই ও তিরুভনন্তপুরমের মতো শহরে ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব থাকতে পারে। 3

আইসিসি জানিয়েছে যে, এতিমাত্র পরিবর্তন করলে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের সূচী ও পরিকল্পনা যথাযথভাবে বজায় রাখা সম্ভব হবে এবং এতে বিসিবির নিরাপত্তা উদ্বেগও বিবেচনায় রাখা হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থাটির নিরাপত্তা দল ইতোমধ্যে কিছু সুপারিশ করেছে যা বাস্তবায়ন করলে নিরাপদ পরিবেশে খেলোয়াড় ও স্টাফরা খেলতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। 4

বিসিবির স্থির অবস্থান

তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তাদের অবস্থানে অনড় থেকে বলেছে যে, ভারতের বিভিন্ন ভেন্যুতে খেললেও সেটা দলকে “নিরাপত্তা ঝুঁকিতে” ফেলতে পারে এবং তাই শ্রীলঙ্কার মতো বিকল্প দেশে স্থানান্তরের পক্ষে তারা দৃঢ়। বিসিবি একাধিকবার নিরাপত্তা এবং দুর্ভেদ্য পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে আইসিসিকে চিঠি দিয়েছে এবং তাদের অনুরোধ করেছে। 5

বাংলাদেশ-ভারত ক্রীড়া সম্পর্কের প্রেক্ষাপট

দুই দেশের মধ্যে ক্রীড়া সম্পর্ক সাধারণত ঘনিষ্ঠ ও প্রতিযোগিতামূলক হলেও সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক কারণগুলো খেলায় প্রভাব ফেলছে। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক ও উত্তেজনা, বিশেষ করে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা বিশ্বকাপের মতো একটি বড় আয়োজনে প্রতিফলিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই ইস্যু কেবল ক্রীড়া নয় বরং বিস্তৃত কূটনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের অংশ, যেখানে দুই দেশের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থাগুলোর মধ্যকার সমঝোতা জয় করা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

উপসংহার

আইসিসির নতুন অনুরোধ বিশ্বকাপকে প্রভাবিত করতে পারে এবং এগিয়ে আসা দিনগুলোতে বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে আরও আলোচনার সুযোগ তৈরি করবে। বাংলাদেশ যাত্রা করলে কি সরাসরি ভারতের মাটিতে খেলবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে নিরাপত্তা, ক্রীড়া প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিবেচনায় এটি ভবিষ্যতের একটি বড় আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Next Post Previous Post

Advertisement