তারেক রহমান আগামী দিনের গণতন্ত্রের টর্চবেয়ারার

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্বে তারেক রহমানকে সামনে রেখে এগোচ্ছে বিএনপি—এমন মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে প্রজ্বালিত গণতন্ত্রের মশাল দীর্ঘদিন বহন করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, আর সেই দায়িত্ব এখন তারেক রহমানের কাঁধে এসে পৌঁছেছে।

বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে জিয়া পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে শোক সভা ও দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন আমীর খসরু। অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র নেতারা ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা ও নেতৃত্বের বার্তা

আমীর খসরু বলেন, শহীদ জিয়া যে গণতান্ত্রিক চেতনার সূচনা করেছিলেন, তা দীর্ঘ সময় ধরে আপসহীনভাবে ধরে রেখেছেন বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে তিনি গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকারের প্রশ্নে কোনো সমঝোতা করেননি। সেই ধারাবাহিকতায় এখন তারেক রহমান গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তারেক রহমানকে ‘গণতন্ত্রের টর্চবেয়ারার’ উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার সক্ষমতা তার রয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে শৃঙ্খলা ও নৈতিক মান বজায় রাখার আহ্বান জানান।

১/১১ প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক অবস্থান

বক্তব্যে আমীর খসরু ২০০৭ সালের ১/১১ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কথাও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, সে সময় অনেক রাজনৈতিক শক্তি আপস করলেও বেগম খালেদা জিয়া কোনো ধরনের সমঝোতায় যাননি। তিনি বলেন, যারা তখন দেশ ছেড়ে গিয়েছিলেন বা সামরিক সমর্থিত ব্যবস্থাকে সহযোগিতা করেছিলেন, তারা আপসের পথ বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া জীবনের ঝুঁকি নিয়েও আপসহীন অবস্থান ধরে রেখেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থান ছিল স্পষ্ট ও দৃঢ়, যা বিএনপির রাজনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি জনসমর্থন

বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরে আমীর খসরু বলেন, এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরে মানুষের হৃদয়ে তাঁর যে স্থান তৈরি হয়েছিল, তারই প্রতিফলন দেখা গেছে জানাজায়। মানুষের ভালোবাসা ও আবেগ থেকেই এত বড় জনসমাগম হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন বড় জানাজা বিরল উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মানুষের প্রতি বেগম জিয়ার গভীর ভালোবাসাই তাঁকে এই সম্মান এনে দিয়েছে। এই ভালোবাসা ও আস্থাকে ভবিষ্যতেও ধরে রাখাই বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতৃত্বের এই বার্তা দলীয় ঐক্য জোরদার করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচির দিকনির্দেশনা দিচ্ছে। দেশের বাইরে অবস্থান করলেও তারেক রহমান যে দলের কৌশলগত সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন, তা এ ধরনের বক্তব্যে আরও স্পষ্ট হচ্ছে।

শোক সভায় সভাপতিত্ব করেন জিয়া পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আবদুল লতিফ। অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ দলের অন্যান্য সিনিয়র নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

উপসংহার

আমীর খসরুর বক্তব্য বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান ও নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরেছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে তারেক রহমানকে সামনে রেখে দলটি যে নতুন করে সংগঠিত হওয়ার বার্তা দিচ্ছে, তা বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে।

Source: Based on reporting from আমার দেশ

Next News Previous News