ভারতে খেলতে না যাওয়ার বিষয়ে আমরা অনড় : আসিফ নজরুল
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী শায়লা শগুফতা ইসলাম এবং কন্যা বুশরা আফরিনের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি অর্থের অপচয়, টেন্ডার অনিয়ম ও অর্থ পাচারের অভিযোগে চলমান অনুসন্ধানের স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। দুদকের উপপরিচালক মো. সাইফুজ্জামান এ সংক্রান্ত আবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করেন।
দুদকের আবেদনে যেসব অভিযোগ
আদালতে দাখিল করা আবেদনে দুদক জানায়, আতিকুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে মশার লার্ভা নিধনের ওষুধ ছিটানোর যন্ত্র ক্রয়ের ক্ষেত্রে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করে সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন রয়েছে।
এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, এসব অনিয়মের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে এবং আতিকুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে দেশ ও দেশের বাইরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ রয়েছে।
দেশ-বিদেশে সম্পদের তথ্য
দুদকের অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অভিযুক্তদের নামে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পাশাপাশি কানাডা, যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক দেশে সম্পদের অস্তিত্ব রয়েছে। দুদকের দাবি, অনুসন্ধানের তথ্য অনুযায়ী অভিযুক্তরা দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে গিয়ে এসব সম্পদ হস্তান্তর বা স্থানান্তরের চেষ্টা করতে পারেন।
আবেদনে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা বিদেশে চলে গেলে চলমান অনুসন্ধান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে তাঁদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে। শুনানি শেষে আদালত দুদকের যুক্তি গ্রহণ করে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন।
গ্রেপ্তার ও বর্তমান অবস্থা
আতিকুল ইসলাম বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর রাতে রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কারাবন্দি আছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ থাকলে এবং তদন্তে বাধা দেওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে আদালতের পক্ষ থেকে বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া একটি প্রচলিত ও আইনসম্মত ব্যবস্থা। এতে করে তদন্ত সংস্থা প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহে সময় ও সুযোগ পায়।
আইনগত ও সামাজিক প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুর্নীতি ও অর্থ পাচার সংক্রান্ত মামলায় একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপকে সরকার ও বিচার বিভাগ দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের অংশ হিসেবে তুলে ধরছে। তবে মানবাধিকার ও আইনগত প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কও রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আদালতের উচ্চতর পর্যায়ে আলোচনার বিষয় হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
উপসংহার
সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেশের দুর্নীতিবিরোধী আইনি প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা মামলার পরবর্তী ধাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
Source: Based on reporting from আমার দেশ
