তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে সহানুভূতি জানালেন মাহমুদুর রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শোক ও সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের পর দলটির গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়ে তিনি শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে অংশ নেন।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাতে গুলশান কার্যালয়ে যান মাহমুদুর রহমান। সেখানে তিনি শোকবইয়ে স্বাক্ষরের পাশাপাশি বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যানের সঙ্গে কিছু সময় কথা বলেন। সাক্ষাৎকালে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, নেতৃত্ব এবং ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণা উঠে আসে আলোচনায়।

সাক্ষাৎ ও শোকবইয়ে স্বাক্ষর

দলীয় সূত্র জানায়, মাহমুদুর রহমানের এই সফর ছিল সম্পূর্ণ সৌজন্যমূলক। তিনি গুলশান কার্যালয়ে প্রবেশ করে প্রথমে শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন। পরে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আমার দেশ-এর নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী, ডেপুটি চিফ রিপোর্টার বাছির জামাল। এছাড়া বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি এম আবদুল্লাহও উপস্থিত ছিলেন।

গুলশান কার্যালয়ের গুরুত্ব

বিএনপির গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে দলটির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এই কার্যালয় থেকেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তিনবারের নির্বাচিত সরকারপ্রধান খালেদা জিয়া দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে এটি শুধু একটি অফিস নয়, বরং দলের ইতিহাস ও স্মৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি স্থান।

গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ মঙ্গলবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের পর থেকেই কার্যালয়টিতে শোকের আবহ বিরাজ করছে। তাঁর মৃত্যু দেশের রাজনীতিতে এক যুগের অবসান ঘটিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

শোক জানাতে মানুষের ঢল

খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর থেকে রাজনীতিক, সাংবাদিক, পেশাজীবী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গুলশান কার্যালয়ে আসছেন। তারা শোকবইয়ে স্বাক্ষর করছেন এবং বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও তাদের সাক্ষাৎ হচ্ছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধারাবাহিক সাক্ষাৎ ও শোক প্রকাশ বিএনপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুহূর্ত। এতে দলীয় ঐক্য ও সমর্থকদের আবেগ যেমন প্রতিফলিত হচ্ছে, তেমনি দেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতাও নতুন করে আলোচনায় আসছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাৎপর্য

মাহমুদুর রহমানের এই সাক্ষাৎকে অনেকেই সৌজন্য ও মানবিক সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে এটি রাজনৈতিক অঙ্গনে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার একটি বার্তা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে এমন সাক্ষাৎ রাজনৈতিক যোগাযোগের দিক থেকেও গুরুত্ব পাচ্ছে।

শোকের এই সময়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থানকে নতুন করে সামনে আনছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

Source: Based on reporting from দৈনিক আমার দেশ

Next Post Previous Post

Advertisement