হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী নেতা গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে শাহবাগ অবরোধ

হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ও ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচিত মাহাদী হাসানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে তারা শাহবাগে অবস্থান নেন, ফলে এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।

আন্দোলনকারীরা জানান, মাহাদী হাসানকে নিঃশর্ত মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে। এর আগে এক ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে তার মুক্তির দাবি জানানো হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় শাহবাগ অবরোধের কর্মসূচি শুরু করা হয়।

আল্টিমেটাম ও কর্মসূচির ঘোষণা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে শনিবার রাতে সংগঠনটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক ঘোষণায় মাহাদী হাসানকে মুক্তির জন্য এক ঘণ্টার সময় বেঁধে দেওয়া হয়। ঘোষণায় বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাকে মুক্তি না দিলে সারাদেশে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

একই দাবিতে ‘জুলাই মঞ্চ’ নামে আরেকটি সংগঠন রোববার (৪ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টায় শাহবাগ মোড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। পাশাপাশি মাহাদী হাসানকে ‘অযৌক্তিকভাবে গ্রেপ্তার’-এর জন্য হবিগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার ও শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারের ঘটনা

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হবিগঞ্জ জেলা শহর থেকে মাহাদী হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার ইয়াছমিন খাতুন গণমাধ্যমকে মাহাদী হাসানকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে কোন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, সে বিষয়ে শুরুতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

সংগঠনের অভিযোগ ও পুলিশের অবস্থান

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ অভিযোগ করেন, মাহাদী হাসানকে ‘পুলিশলীগ’ কর্তৃক গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাঁর দাবি, ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র ও আইন উপদেষ্টাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, আইজিপির সঙ্গে কথা হলেও সেই বক্তব্য সংগঠনকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি।

রিফাত রশিদ আরও বলেন, পুলিশ সুপারের ভাষ্য অনুযায়ী আপাতত মাহাদী হাসানকে হত্যা মামলায় নয়, অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, পুলিশের অভ্যন্তরীণ চাপের কারণেই এই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আরও গ্রেপ্তারের আশঙ্কার দাবি

সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেন, অনানুষ্ঠানিক সূত্রে পুলিশের ভেতর থেকে জানা গেছে— নির্বাচনকালীন সহিংসতার অভিযোগ তুলে জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক গ্রেপ্তারের পরিকল্পনা রয়েছে। এই আশঙ্কা থেকেই আন্দোলনকারীরা দ্রুত ও কঠোর কর্মসূচির পথে হাঁটছেন বলে জানান তারা।

আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাহাদী হাসানকে মুক্তি না দিলে শুধু শাহবাগ নয়, সারাদেশে একযোগে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড় শাহবাগে অবরোধ কর্মসূচি নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনকালীন সময়ে শিক্ষার্থী ও যুব নেতৃত্বের গ্রেপ্তার নিয়ে তৈরি হওয়া এই প্রতিবাদ সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা অনেকটাই নির্ভর করছে মাহাদী হাসানের আইনি অবস্থান ও কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।

Source: Based on reporting from দেশ টিভি

Next Post Previous Post

Advertisement