মার্কিন যুদ্ধজাহাজে নিউইয়র্কে নেওয়া হচ্ছে মাদুরোকে
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে নিউইয়র্কে নেওয়া হচ্ছে—এমন বিস্ফোরক দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বর্তমানে মাদুরো দম্পতি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি জাহাজে রয়েছেন এবং তাদের নিউইয়র্কে স্থানান্তর করা হচ্ছে।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ভেনেজুয়েলা সংকট নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা। যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে এমন দাবি বৈশ্বিক রাজনীতিতে বড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ফক্স নিউজে ট্রাম্পের বক্তব্য
ফক্স নিউজের উপস্থাপক গ্রিফ জেনকিন্স ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন। জবাবে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, “তারা নিউইয়র্ক যাচ্ছেন।” পরবর্তী প্রশ্নে ট্রাম্প নিশ্চিত করেন, প্রথমে তাদের একটি জাহাজে তোলা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “তারা ইউএসএস ইও জিমা জাহাজে আছে। তাদের নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হবে।”
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ থেকে হেলিকপ্টারে করে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে বের করে আনা হয়। তিনি বলেন, “হেলিকপ্টারে তারা খুব ভালো একটি ফ্লাইট পেয়েছেন। আমার বিশ্বাস, তারা এই ফ্লাইট উপভোগও করেছেন।” একই সঙ্গে ট্রাম্প মাদুরোর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেন, “মনে রাখবেন, মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী বহু মানুষকে হত্যা করেছেন।”
মাদুরোকে ‘সুযোগ’ দেওয়ার দাবি
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সও এই প্রসঙ্গে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি জানান, ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালানোর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মাদুরোকে ক্ষমতা ছাড়ার সুযোগ দিতে চেয়েছিলেন। এ বিষয়ে ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেন, “আমি তাকে বলেছিলাম—আপনাকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে, আত্মসমর্পণ করতে হবে।”
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, তিনি এক সপ্তাহ আগেই সরাসরি মাদুরোর সঙ্গে কথা বলেন। আলোচনার সময়ও একই বার্তা দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। তবে মাদুরো সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয় বলে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন।
ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপট
এর আগে স্থানীয় সময় শুক্রবার গভীর রাতে ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালায় মার্কিন বাহিনী—এমন তথ্যও সামনে এসেছে। ওই অভিযানের সময়ই মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করা হয় বলে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। যদিও ভেনেজুয়েলার সরকারি সূত্র বা মাদুরো সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক সংকট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই কড়া অবস্থান নিয়ে আসছে। ইউরোপের ২৭টি দেশ প্রকাশ্যে ভেনেজুয়েলার জনগণের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মাদুরোকে আটক ও যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার দাবি আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকেও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, যদি এই দাবি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এটি লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ঘটনা হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র–ভেনেজুয়েলা সম্পর্ক আরও তীব্র সংঘাতের দিকে যেতে পারে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এখন পর্যন্ত এই তথ্যের স্বাধীন যাচাই হয়নি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছে।
Source: Based on reporting from Fox News and দৈনিক আমার দেশ
