সৎ মানুষের হাতে ভোটের আমানত তুলে দিন: গোলাম পরওয়ার
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজির রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করে সৎ ও যোগ্য মানুষের হাতে ভোটের আমানত তুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদীরা পালিয়ে গেলেও যারা লুটপাট ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তারা আবার ক্ষমতায় এলে হিন্দু-মুসলমান কারও জান-মাল নিরাপদ থাকবে না।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।
সন্ত্রাসের অতীত স্মরণ
সংসদ সদস্য থাকাকালীন সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে গোলাম পরওয়ার বলেন, একসময় ডুমুরিয়া ছিল ভয়াবহ সন্ত্রাসকবলিত এলাকা। সন্ধ্যার আগেই মানুষ ঘরে ঢুকে পড়ত। প্রতিদিন হত্যা, গুম ও হাত-পা কাটার মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটত।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে তিনি দুটি অঙ্গীকার করেছিলেন—সন্ত্রাস দমন এবং শতভাগ স্বচ্ছ উন্নয়ন বাস্তবায়ন।
উন্নয়ন কাজের দাবি
জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা দাবি করেন, সংসদ সদস্য থাকাকালে তিনি প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করেছেন। এসব উন্নয়ন কাজের পূর্ণাঙ্গ হিসাব ইউনিয়ন ও খাতভিত্তিকভাবে বই আকারে প্রকাশ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সন্ত্রাস দমনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যৌথবাহিনী গঠন করে বহু সন্ত্রাসীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে এবং কেউ কেউ আত্মগোপনে চলে গেছে।
নির্বাচনি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
বর্তমান নির্বাচনি প্রেক্ষাপট নিয়ে গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, আবারও দুর্নীতিবাজদের ক্ষমতায় ফেরানোর ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি বলেন, “একজনকে এমপি বানানো হবে, কিন্তু তিনি থাকবেন ঢাকা বা লন্ডনে। আর তার সাগরেদরা এলাকায় চাঁদাবাজি, মাস্তানি ও ঘের দখলে লিপ্ত হবে।”
এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ, আদালতে ১৩ বছরের সাজা এবং হাওয়া ভবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি
এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য আবু ইউসুফ মোল্লা, ডুমুরিয়া উপজেলা আমির মাওলানা মোক্তার হোসেন, উপজেলা নায়েবে আমির গাজী সাইফুল্লাহ এবং মাওলানা হাবিবুর রহমানসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
সূত্র: খুলনা ব্যুরো
