ঢাবিতে ১৫০০ কম্বল বিতরণ ছাত্রশিবিরের
শীতের তীব্রতা বাড়তে থাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের কষ্ট লাঘবে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কম্বল বিতরণ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। এক সপ্তাহব্যাপী এই শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম ক্যাম্পাসের বিভিন্ন আবাসিক হল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিচালিত হয়।
শনিবার রাতে কম্বল বিতরণের সর্বশেষ পর্ব সম্পন্ন হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শীতের প্রকোপ বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনভিত্তিকভাবে এই সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
আবাসিক হল ও কর্মচারীদের অগ্রাধিকার
ছাত্রশিবির সূত্রে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের চাহিদা যাচাই করে কম্বল বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি হল সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের মাঝেও শীতবস্ত্র দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নৈশ প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের শীতজনিত ভোগান্তির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়।
সংগঠনটির দাবি, দীর্ঘ সময় খোলা জায়গায় দায়িত্ব পালন করা এসব কর্মচারী শীতকালে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। সে কারণে তাদের অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়।
টিএসসি এলাকায় শ্রমজীবীদের সহায়তা
ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (টিএসসি) এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমোদিত দোকানগুলোতে কর্মরত শ্রমজীবী মানুষদের মাঝেও কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এসব দোকানের কর্মচারীদের অনেকেই নিম্ন আয়ের হওয়ায় শীত মোকাবিলায় বাড়তি সহায়তার প্রয়োজন পড়ে বলে আয়োজকরা মনে করেন।
শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চলাকালে সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রত্যক্ষভাবে উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রয়োজনের কথা শোনেন।
শীতের কষ্ট লাঘবে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান
কম্বল বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি কাজী আশিক। এ সময় তিনি বলেন, চলতি বছরে শীতের তীব্রতা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী, কর্মচারী ও দোকান কর্মচারী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
তার ভাষায়, “আমরা আমাদের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। তবে শুধু একটি সংগঠনের পক্ষে এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন, অ্যালামনাই এবং সমাজের বিত্তবানদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।”
ক্যাম্পাস ছাড়াও দেশজুড়ে শীতের দুর্ভোগ
কাজী আশিক আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিম্নবিত্ত মানুষ শীতজনিত দুর্ভোগে রয়েছেন। অনেকেই শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এখন একটি সামাজিক দায়িত্বে পরিণত হয়েছে।
তিনি সারাদেশের সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে শীতবস্ত্র বিতরণসহ মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সূত্র: dhaka-post এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে
