এমনি এমনি তো কারও ফোন নেয় না, কেন বললেন বিসিবি পরিচালক মিঠু

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ঘিরে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ও দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা যখন তুঙ্গে, তখন বিসিবি পরিচালক ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যসচিব ইফতেখার রহমান মিঠু স্পষ্ট অবস্থান জানালেন। খেলোয়াড়দের ফোন তল্লাশি ও কড়া নজরদারি নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এমনি এমনি তো কারও ফোন নেওয়া হয় না, এটা পর্যবেক্ষণেরই একটি অংশ।”

গুরবাজের ঘটনা ঘিরে বিতর্ক

সম্প্রতি ঢাকা ক্যাপিটালসের প্রধান নির্বাহী আতিক ফাহাদ দাবি করেন, আফগান ব্যাটার রহমানউল্লাহ গুরবাজ ঘুমাতে যাওয়ার পর তার কক্ষে প্রবেশ করেন দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তা। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই বিপিএলের নিরাপত্তা ও দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

ফোন তল্লাশি নিয়ে মিঠুর ব্যাখ্যা

শনিবার (১০ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইফতেখার রহমান মিঠু বলেন, “কেউ তো এমনি এমনি কারও ফোন নেয় না। এটা পর্যবেক্ষণের অংশ। আমার ফোনও যেকোনো সময় নেওয়া হতে পারে। তাদের সেই অধিকার রয়েছে।” তিনি জানান, দুর্নীতিবিরোধী নীতিমালায় এসব পর্যবেক্ষণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।

ড্রেসিংরুম ও পিএমও এলাকায় কড়া নিষেধাজ্ঞা

দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটের কঠোরতার উদাহরণ দিয়ে মিঠু বলেন, বিপিএলের একটি নির্দিষ্ট পিএমও (Player & Match Official) এলাকা রয়েছে, যেখানে আম্পায়াররা থাকেন এবং বসেন। “আমি বিপিএল ম্যানেজ করলেও ওই এলাকায় আমার প্রবেশাধিকার নেই। এমনকি ড্রেসিংরুমেও না। এটাই প্রমাণ করে তারা কতটা আত্মনিবেদন নিয়ে কাজ করছে,” বলেন তিনি।

আইসিসির আদলে পরিচালিত হচ্ছে কার্যক্রম

মিঠু জানান, এবারের বিপিএলে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে আইসিসি ও বিশ্বকাপসহ আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর আদলে। তিনি বলেন, “দুর্নীতিবিরোধী ইউনিট একটি স্বাধীন ইউনিট। আইসিসি থেকে তাদের ম্যানেজার আনা হয়েছে, যাতে তারা আলাদা একটি ইউনিট হিসেবে কাজ করতে পারে।”

১৫ জানুয়ারির পর বিস্তারিত জানানো হবে

গুরবাজ সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সাংবাদিকদের অনুরোধ জানিয়ে মিঠু বলেন, “১৫ তারিখের পর আমাদের দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তারা আপনাদের বিস্তারিত জানাবেন।”

ফিক্সিং কমেছে বলে দাবি

মিঠুর মতে, এবারের বিপিএলে দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটের কড়া নজরদারির কারণে ফিক্সিংয়ের আশঙ্কা অনেকটাই কমে এসেছে। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকেও আপনারা জানতে পারবেন—সন্দেহভাজন কর্মকাণ্ড আগের তুলনায় কমেছে।”

সূত্র: ঢাকা পোস্ট

Next Post Previous Post

Advertisement