দুইদিনে ৫ ব্যাংক থেকে ১০৭ কোটি টাকা উত্তোলন: গভর্নর
দেশের পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ইসলামি ব্যাংক থেকে মাত্র দুই দিনে ১০৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকার আমানত উত্তোলন হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সময়ে এসব ব্যাংকে নতুন করে জমা পড়েছে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, সাম্প্রতিক উদ্বেগ সত্ত্বেও ব্যাংকিং খাতের পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আমানতকারীদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এসব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, পূর্বানুমান অনুযায়ী যে মাত্রায় আমানত উত্তোলনের আশঙ্কা করা হয়েছিল, বাস্তবে তার চেয়ে কম চাপ পড়েছে।
উত্তোলনের চিত্র ও লেনদেনের পরিসংখ্যান
বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দিনে পাঁচটি ইসলামি ব্যাংক থেকে মোট ১৩ হাজার ৩১৪টি লেনদেনের মাধ্যমে ১০৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি টাকা উত্তোলন হয়েছে এক্সিম ব্যাংক থেকে, যার পরিমাণ প্রায় ৬৬ কোটি টাকা।
তবে একই সময়ে নতুন আমানত জমার হারও উল্লেখযোগ্য ছিল। গভর্নর জানান, এই দুই দিনে প্রায় ৪৪ কোটি টাকার নতুন আমানত এসেছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দৃষ্টিতে একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত। তার মতে, এটি প্রমাণ করে যে সব গ্রাহক ব্যাংকগুলোর ওপর আস্থা হারাননি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান
সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, সাম্প্রতিক একটি স্কিম বা নীতিগত ঘোষণার পর ব্যাংক খাতে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা দক্ষভাবে মোকাবিলা করা গেছে। “আমরা যে ধরনের উত্তোলনের আশঙ্কা করেছিলাম, বাস্তবে সেটি হয়নি,”—বলেন তিনি।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমানতকারীদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তার ভাষায়, “গ্রাহকদের সব আমানত নিরাপদ থাকবে। যারা নতুন করে আমানত রাখবেন, তারাও যেকোনো সময় তা উত্তোলন করতে পারবেন।”
ইসলামি ব্যাংক খাতের প্রেক্ষাপট
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ইসলামি ব্যাংক খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তারল্য সংকট, পরিচালনা পর্ষদের পরিবর্তন, অনিয়মের অভিযোগ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার বাড়তি নজরদারি—সব মিলিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে কিছু গ্রাহক সতর্কতার অংশ হিসেবে আমানত তুলে নিচ্ছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে ব্যাংক খাত–সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদদের মতে, একই সঙ্গে নতুন আমানত জমা পড়া দেখাচ্ছে যে সামগ্রিকভাবে আস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। বরং অনেক গ্রাহক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশ্বাসের ওপর ভরসা রাখছেন।
বাংলাদেশি গ্রাহকদের জন্য বার্তা
বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ইসলামি ব্যাংকগুলোর বড় একটি অংশ রয়েছে, যেখানে লাখো গ্রাহকের আমানত সংরক্ষিত। তাই এই খাতের স্থিতিশীলতা সরাসরি সাধারণ মানুষের আর্থিক নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক বক্তব্যে গ্রাহকদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ, নিয়মিত নজরদারি এবং দ্রুত নীতিগত পদক্ষেপই পারে গ্রাহকদের আস্থা ধরে রাখতে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আতঙ্কের বদলে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শও দিচ্ছেন তারা।
Source: Based on reporting from আমার দেশ অনলাইন
