ফরহাদের প্রশংসা ও যে দোয়া করলেন সাদিক কায়েম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সদ্যবিদায়ী সভাপতি এস এম ফরহাদের নেতৃত্ব, ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ফরহাদের জন্য দোয়া ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেছেন। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে সাদিক কায়েম এসব কথা বলেন।

ছাত্ররাজনীতি, ডাকসু নির্বাচন এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী ছাত্ররাজনীতির ধারা ও নেতৃত্বের প্রশ্নে ফরহাদের ভূমিকা নিয়ে যে আলোচনা রয়েছে, সাদিক কায়েমের বক্তব্য সেটিকে আরও স্পষ্ট করেছে।

দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও পারস্পরিক বিশ্বাস

ফেসবুক পোস্টে সাদিক কায়েম উল্লেখ করেন, এস এম ফরহাদ তার কাছে কেবল একজন রাজনৈতিক সহযোদ্ধা নন; বরং ছোট ভাই, বন্ধু এবং নেতা। কৈশোরকাল থেকেই তাদের একসঙ্গে পথচলার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সময়ের পরিবর্তনে অনেক সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়লেও তাদের সম্পর্ক বরং আরও দৃঢ় ও বিশ্বাসপূর্ণ হয়েছে।

সাদিক কায়েমের ভাষায়, ফরহাদের চিন্তাশক্তি, যুক্তিনির্ভর বক্তব্য এবং নেতৃত্বের পরিণত রূপ তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। তার মতে, এই গুণগুলো হঠাৎ করে তৈরি হয়নি; বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অভিজ্ঞতা ও সংগ্রামের মধ্য দিয়েই বিকশিত হয়েছে।

সংকটে নেতৃত্ব ও জুলাই বিপ্লবের ভূমিকা

ছাত্রশিবিরের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীদের কাছে ফরহাদের নেতৃত্ব যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সেটিও পোস্টে তুলে ধরেন সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, সংকট ও ক্রান্তিকালে সংগঠনকে সঠিক পথে রাখার জন্য ফরহাদের সুপরিকল্পিত চিন্তা ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত ছিল স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।

বিশেষভাবে তিনি জুলাই বিপ্লবের নয় দফা কর্মসূচির প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। সাদিক কায়েমের দাবি অনুযায়ী, এই কর্মসূচির প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের পেছনে যে নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রম, সাংগঠনিক দক্ষতা ও দৃঢ় অবস্থান প্রয়োজন ছিল, তার অন্যতম প্রধান ভরকেন্দ্র ছিলেন এস এম ফরহাদ।

আপসহীনতা ও নৈতিক অবস্থান

ফরহাদের ব্যক্তিত্বের আরেকটি দিক হিসেবে সাদিক কায়েম তুলে ধরেন তার লৌকিকতাবর্জিত ও বিনয়ী চরিত্র। তিনি বলেন, আত্মঅহংকার ফরহাদের মধ্যে কখনো জায়গা পায়নি। একই সঙ্গে সত্য ও ন্যায়ের প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপসহীন।

ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে অপপ্রচার, পরিকল্পিত চরিত্রহনন এবং নারীদের বিরুদ্ধে অশালীন আক্রমণের ঘটনায় ফরহাদের অবস্থান ছিল স্পষ্ট ও দৃঢ়—এমন মন্তব্যও করেন সাদিক কায়েম। তার ভাষায়, এ ধরনের পরিস্থিতিতে ভুলকে ভুল এবং সঠিককে সঠিক বলার সাহস ফরহাদের চরিত্রের অন্যতম মৌলিক বৈশিষ্ট্য।

ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও দোয়ার আহ্বান

পোস্টের শেষাংশে সাদিক কায়েম ফরহাদের ভবিষ্যৎ ভূমিকার জন্য দোয়া করেন। তিনি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানান, যেন এস এম ফরহাদ জুলাই বিপ্লব ও আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারেন।

তিনি আরও কামনা করেন, ফরহাদের বুদ্ধিমত্তা ও নেতৃত্বের শক্তি যেন আরও বিকশিত হয় এবং তা মানুষের নিরাপত্তা, ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজে ভূমিকা রাখে। এই দোয়ার মাধ্যমে সাদিক কায়েম তার পোস্ট শেষ করেন।

সামগ্রিকভাবে, এই বক্তব্য ছাত্ররাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে নেতৃত্ব, নৈতিকতা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Source: Based on reporting from আমার দেশ অনলাইন

Next Post Previous Post

Advertisement