এ সরকারের আমলে চালু হচ্ছে না শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রত্যাশিত তৃতীয় টার্মিনাল (থার্ড টার্মিনাল) বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে চালু হচ্ছে না। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই সরকারের সময়সীমার মধ্যে টার্মিনালটি চালু করা সম্ভব হবে না।

সোমবার রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। ‘ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ বিষয়ে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনেই শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করা হয়।

সরকারি সিদ্ধান্ত ও বাস্তবতা

উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “না, এ সরকারের সময়ে থার্ড টার্মিনাল চালু করতে পারবো না।” তার এই বক্তব্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটেছে। তিনি জানান, টার্মিনালটি চালুর জন্য সরকার আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালিয়েছে, তবে বাস্তব ও প্রক্রিয়াগত সীমাবদ্ধতার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি শুধু অবকাঠামোগত প্রস্তুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং আন্তর্জাতিক অংশীদার, চুক্তিগত শর্ত এবং পরিচালন কাঠামোসহ বেশ কিছু জটিল পদ্ধতিগত বিষয় এর সঙ্গে জড়িত।

জাপানের সঙ্গে আলোচনা হলেও ফল আসেনি

সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা জানান, থার্ড টার্মিনাল চালু করার লক্ষ্যে তিনি ব্যক্তিগতভাবে জাপানের ভাইস মিনিস্টারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে দরকষাকষিও হয়েছে।

তবে তিনি স্বীকার করেন, “আমরা চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমাদের প্রচেষ্টা সম্ভবত সফল হয়নি।” সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, প্রকল্পের অর্থায়ন, পরিচালনা ও হস্তান্তর–সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নি, যা সময়মতো চালু হওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরবর্তী সরকারের জন্য প্রস্তুতি রেখে যাচ্ছে বর্তমান সরকার

শেখ বশিরউদ্দীন জানান, বর্তমান সরকার এখন থার্ড টার্মিনাল চালুর জন্য প্রয়োজনীয় পদ্ধতিগত প্রস্তুতিগুলো সচল রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, “এটার যে পদ্ধতিগত প্রয়োজনগুলো রয়েছে পরবর্তী কর্মকাণ্ডের জন্য, সেগুলো আমরা চালু রাখার চেষ্টা করছি। পরবর্তী সরকার এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।”

অর্থাৎ, প্রকল্পটি পুরোপুরি থেমে যাচ্ছে না; বরং ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য একটি প্রস্তুত কাঠামো রেখে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের বিমান চলাচলে এর প্রভাব

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার। যাত্রী চাপ বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধি এবং কার্গো পরিবহনের চাহিদা বাড়ার কারণে তৃতীয় টার্মিনালকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে দেখা হয়।

বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, থার্ড টার্মিনাল চালু হলে বছরে কোটি কোটি যাত্রী সামাল দেওয়ার সক্ষমতা বাড়বে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় একটি আধুনিক এভিয়েশন হাব হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হবে। তবে বিলম্বের ফলে আপাতত সেই সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না।

সামগ্রিক মূল্যায়ন

বর্তমান সরকারের মেয়াদে থার্ড টার্মিনাল চালু না হওয়ার ঘোষণা বাস্তবতারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, বড় অবকাঠামো প্রকল্পে সময়, আন্তর্জাতিক সমন্বয় এবং নীতিগত ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন দৃষ্টি থাকবে পরবর্তী সরকারের দিকে—তারা কত দ্রুত এই প্রকল্পের বাকি সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে কাজ এগিয়ে নিতে পারে।

Source: Based on reporting from আমার দেশ অনলাইন

Next Post Previous Post

Advertisement