আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল-যুবদল সংঘর্ষ, আটক ৫
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও যুবদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গিয়ে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান দোলনসহ পাঁচজনকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী।
ফতুল্লার তক্কার মাঠে উত্তপ্ত পরিস্থিতি
শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার ফতুল্লার তক্কার মাঠ এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং ঝুট সেক্টরের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি জয়নাল গ্রুপ ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান দোলন গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
ককটেল বিস্ফোরণ ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ
দুপুরের দিকে তক্কার মাঠ এলাকায় উভয় পক্ষের লোকজন মুখোমুখি হলে প্রথমে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে সংঘর্ষ আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। এ সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের পাশাপাশি দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও ইট-পাটকেল ব্যবহার করা হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
যৌথ বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ
সংঘর্ষের খবর পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ যৌথ বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে এলাকা থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়। সংঘর্ষের কারণে কিছু সময়ের জন্য পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।
আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন
ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান জানান, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান দোলনসহ মোট পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
এলাকাবাসীর উদ্বেগ
এলাকাবাসী জানান, রাজনৈতিক প্রভাব ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ ধরনের সংঘর্ষ এলাকায় নতুন নয়। তারা দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
সূত্র: আমার দেশ অনলাইন
