জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কক্সবাজার-২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথে তার প্রার্থিতা নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, আপিল শুনানির মাধ্যমে তার অবসান ঘটলো।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনে অনুষ্ঠিত আপিল শুনানি শেষে ইসি তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে। এর ফলে আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতের এই সিনিয়র নেতা ধানের শীষের সমর্থনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।

আপিল শুনানির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, হামিদুর রহমান আযাদের দাখিল করা আপিল আবেদন, হলফনামা ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে কমিশন তার পক্ষে রায় দেয়। শুনানিতে উপস্থাপিত ব্যাখ্যা ও কাগজপত্রে সন্তুষ্ট হয়ে কমিশন আগের বাতিলাদেশ বাতিল করে মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াতের নির্বাচনী প্রস্তুতিতে নতুন গতি এসেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

মনোনয়ন বাতিলের পেছনের কারণ

এর আগে গত ২ জানুয়ারি কক্সবাজার জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। অভিযোগ ছিল, হলফনামায় মামলার তথ্য সংক্রান্ত জটিলতা ও অস্পষ্টতার কারণে তার মনোনয়ন গ্রহণযোগ্য নয়।

রিটার্নিং কর্মকর্তার এই সিদ্ধান্তের ফলে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার-২ আসনে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি হয়। তবে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দ্রুত নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন হামিদুর রহমান আযাদ।

জামায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়াকে ‘ন্যায়বিচারের প্রতিফলন’ হিসেবে দেখছেন হামিদুর রহমান আযাদের সমর্থকরা। তারা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত জামায়াতের নির্বাচনী রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে।

হামিদুর রহমান আযাদ এর আগে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং মহেশখালী–কুতুবদিয়া এলাকায় তার একটি সুপরিচিত রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। ফলে তার প্রার্থিতা বাতিল ও পুনর্বহালের বিষয়টি স্থানীয় ভোটারদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে।

কক্সবাজার-২ আসনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

কক্সবাজার-২ আসনটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। উপকূলীয় অঞ্চল, দ্বীপাঞ্চল এবং মৎস্যনির্ভর অর্থনীতির কারণে এই আসনের ভোটারদের নানা সামাজিক ও অর্থনৈতিক দাবি রয়েছে। নির্বাচনী বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বহুমাত্রিক এবং প্রার্থীদের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা বড় ভূমিকা রাখবে।

হামিদুর রহমান আযাদের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার মাধ্যমে এই আসনের নির্বাচনী প্রতিযোগিতা আরও জমে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Source: Based on reporting from Dhaka Post

Next Post Previous Post

Advertisement