৫ আগস্টের আগের অবস্থায় আর ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই

৫ আগস্টের আগের অবস্থায় বাংলাদেশের ফিরে যাওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, সময় ও বাস্তবতা বদলে গেছে, নতুন প্রজন্ম এখন দিকনির্দেশনা ও ভবিষ্যতের একটি স্পষ্ট আশা দেখতে চায়।

শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে পত্রিকা, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তারেক রহমান। দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং জনগণের প্রত্যাশা নিয়ে তিনি খোলামেলা আলোচনা করেন।

নতুন প্রজন্ম দিকনির্দেশনা খুঁজছে

তারেক রহমান বলেন, দেশে ফেরার পর সাভারসহ বিভিন্ন এলাকায় যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। এসব জায়গায় গিয়ে তার কাছে মনে হয়েছে, নতুন প্রজন্ম একটি গাইডেন্স প্রত্যাশা করছে। তারা অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগোতে চায়।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের রাজনৈতিক আন্দোলন—এই তিনটি ঐতিহাসিক অধ্যায়কে সামনে রেখে যদি দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য কাজ করা যায়, তবে সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও জবাবদিহিতার গুরুত্ব

মতবিনিময় সভায় এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে নারী নিরাপত্তার প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, নারী ও পুরুষ—উভয়েরই নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সমাজে মতপার্থক্য থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক। তবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু রাখতে হবে এবং জবাবদিহিতার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি রাজনৈতিক কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, মতভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও সবাইকে গণতন্ত্রের পথেই এগোতে হবে।

২২ জানুয়ারি থেকে জনগণের কাছে যাওয়ার ঘোষণা

তারেক রহমান জানান, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে বিএনপির পরিকল্পনা নিয়ে জনগণের কাছে যাওয়া হবে। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ায় আলোচনা ও সমালোচনা আসবে, যা দেশের মানুষের সমস্যা সমাধানে কাজে লাগবে।

তার মতে, গণমাধ্যম ও জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হবে।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন যারা

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড সম্পাদক ইনাম আহমদ, নিউ এজ সম্পাদক নুরুল কবীর, কালের কণ্ঠ সম্পাদক হাসান হাফিজ, যুগান্তর সম্পাদক কবি আব্দুল হাই শিকদারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের শীর্ষ সম্পাদকরা।

এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, মেজর (অব.) হাফিজ আহমদসহ দলের শীর্ষ নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

Source: আমার দেশ

Next Post Previous Post

Advertisement