যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনা: নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছে ভারত
বাংলাদেশের যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাব্য আলোচনা ঘিরে আঞ্চলিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের খবর সামনে আসার পর বিষয়টি ‘নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ’ করছে বলে জানিয়েছে ভারত। একই সঙ্গে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে নয়াদিল্লি।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, “ভারত তার জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয় খুব ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করে।” তার এই মন্তব্য আসে এমন এক প্রেক্ষাপটে, যখন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান সম্প্রতি পাকিস্তানের সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত হিসাব
দক্ষিণ এশিয়ায় সামরিক সক্ষমতা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বরাবরই সংবেদনশীল ইস্যু। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের মতো একটি প্রতিবেশী দেশের যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত ভারত স্বাভাবিকভাবেই কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক যোগাযোগের বিষয়টি নয়াদিল্লির নিরাপত্তা ভাবনায় অতিরিক্ত গুরুত্ব পায়। তবে ভারতীয় মুখপাত্রের বক্তব্যে সরাসরি কোনো আপত্তি বা প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত না থাকলেও ‘নিবিড় পর্যবেক্ষণ’ শব্দচয়ন বিষয়টির গুরুত্বই তুলে ধরে।
ঢাকা–করাচি ফ্লাইট ও আকাশসীমা প্রসঙ্গ
ঢাকা ও করাচির মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত এবং এ ক্ষেত্রে ভারতীয় আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি প্রয়োজন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বিদ্যমান এয়ার সার্ভিসেস চুক্তি অনুযায়ীই নেওয়া হবে। অর্থাৎ, বিষয়টি কূটনৈতিক ও কারিগরি চুক্তির আওতায় নির্ধারিত নিয়ম অনুসারেই বিবেচিত হবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
সংখ্যালঘু ইস্যুতে উদ্বেগ পুনর্ব্যক্ত
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়েও আবারও উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারত। জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর বারবার হামলার একটি ‘উদ্বেগজনক ধারা’ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তার দাবি অনুযায়ী, উগ্রবাদীদের মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনাও ঘটছে।
ভারতীয় মুখপাত্রের মতে, এসব ঘটনাকে অনেক সময় ব্যক্তিগত শত্রুতা, রাজনৈতিক মতবিরোধ বা অন্য বাহ্যিক কারণের সঙ্গে যুক্ত করে গুরুত্ব কমানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু এমন অবহেলা উগ্রপন্থী ও অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করে এবং সংখ্যালঘুদের মধ্যে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ায়। তিনি দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন নিয়ে ভারতের অবস্থান
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে জাতীয় নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক নয়—প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অনুপস্থিতির কারণে—এমন প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারত এখনো অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান বজায় রেখেছে। তার ভাষায়, একটি বিশ্বাসযোগ্য ম্যান্ডেট নিশ্চিত করতে সব পক্ষের অংশগ্রহণ জরুরি।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব
বাংলাদেশের জন্য এই মন্তব্যগুলো কেবল কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং আঞ্চলিক রাজনীতি, নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যুদ্ধবিমান কেনার মতো প্রতিরক্ষা সিদ্ধান্ত যেমন আঞ্চলিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে, তেমনি সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ও নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ দেশের ভাবমূর্তি ও বৈদেশিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
Source: Based on reporting from দেশ টিভি অনলাইন
