বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন তারেক রহমান

বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তারেক রহমান। দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও দীর্ঘদিনের নেতৃত্বদানকারী বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর শূন্য হওয়া এই পদে তাকে নির্বাচিত করা হয়। বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় স্থায়ী কমিটির এক জরুরি বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তার ভাষায়, দলীয় গঠনতন্ত্র অনুসরণ করেই চেয়ারম্যান পদে তারেক রহমানের দায়িত্ব গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নেতৃত্ব পরিবর্তন

বিএনপির দলীয় সূত্র জানায়, বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের মাধ্যমে চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়ে পড়লে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী স্থায়ী কমিটির বৈঠক আহ্বান করা হয়। সেখানে উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে তারেক রহমানকে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর ফলে দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে নেতৃত্ব দেওয়া তারেক রহমান এবার পূর্ণাঙ্গভাবে দলটির সর্বোচ্চ সাংগঠনিক দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হলেন।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থেকে পূর্ণ দায়িত্ব

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দি হওয়ার পর তারেক রহমানকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করা হয়। এরপর থেকে প্রায় আট বছর ধরে তার নেতৃত্বেই দল পরিচালিত হয়ে আসছিল। দেশে না থেকেও দলীয় সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক কৌশল এবং আন্দোলন কর্মসূচিতে তারেক রহমানের ভূমিকা ছিল কেন্দ্রীয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে দলের নেতৃত্ব কাঠামোতে যে অনিশ্চয়তা ছিল, তা দূর হলো। একই সঙ্গে এটি বিএনপির জন্য একটি সাংগঠনিক স্থিতিশীলতার বার্তাও দেয়।

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবসান ও প্রেক্ষাপট

করোনাভাইরাস মহামারির সময় পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ২০২০ সালের ২৫ মার্চ শর্তসাপেক্ষে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়। মুক্তির শর্ত অনুযায়ী তিনি রাজনীতি করতে পারবেন না এবং চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারবেন না। এর ফলে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে কার্যত দূরে সরে যান।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতির আদেশে তিনি মুক্ত হলেও আর সরাসরি রাজনীতিতে ফেরেননি। চলতি বছরের ৩০ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু ঘটে, যা বিএনপির রাজনীতিতে একটি যুগের অবসান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব

তারেক রহমানের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। সামনে জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী দল হিসেবে বিএনপির ভূমিকা, নির্বাচনকেন্দ্রিক অবস্থান এবং সাংগঠনিক পুনর্গঠনে তারেক রহমানের নেতৃত্ব কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

দলের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে চলা নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা এবার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাওয়ায় বিএনপি নতুনভাবে নিজেদের সংগঠিত করতে পারবে—এমন প্রত্যাশাও করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

Source: Based on reporting from Dhaka Post

Next Post Previous Post

Advertisement