আমরা ইন্টারনেট বন্ধ করিনি’ বক্তব্যের ভিডিও মনোযোগ দিয়ে দেখলেন পলক

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের দেওয়া একটি ভিডিও ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শন করা হয়েছে। ভিডিওতে পলক বলেন, ‘আমরা ইন্টারনেট বন্ধ করিনি, বন্ধ হয়ে গেছে।’ ভিডিওটি কাঠগড়ায় বসে নিজেই মনোযোগ দিয়ে দেখেন পলক।

রোববার (১১ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এবং পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্যানেল বিচার পরিচালনা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম শুনানিতে মামলা পরিচালনা করেন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ

শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, জুলাই আন্দোলনের সময় সজীব ওয়াজেদ জয় দেশের বাইরে থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন কাজে হস্তক্ষেপ করতেন এবং পলককে ইন্টারনেটের গতি কমানোর নির্দেশ দিতেন। এছাড়া আন্দোলনকারীদের ওপর বলপ্রয়োগের নির্দেশ দেন। প্রসিকিউশনের মতে, জয়ের নির্দেশে পলকের মন্ত্রণালয় ইন্টারনেট সেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দিত।

ট্রাইব্যুনালে দেখানো ভিডিওতে পলক নিজেই জানান, ‘আমরা ইন্টারনেট বন্ধ করিনি, বন্ধ হয়ে গেছে’। এরপর চিফ প্রসিকিউটর তিনটি অভিযোগ পড়েন।

  • অভিযোগ ১: ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনটি উসকানিমূলক পোস্ট দিয়ে ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার নির্দেশ দেওয়া।
  • অভিযোগ ২: উভয়ের পরামর্শক্রমে ইন্টারনেট বন্ধ করে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি ও প্ররোচনা, যার ফলে পুলিশ ও দলীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় ২৮ জন শহীদ হন।
  • অভিযোগ ৩: উত্তরায় ৩৪ হত্যায় সহায়তা; উসকানি ও প্ররোচনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলায় ছয় বছরের জাবির ইবরাহিম, সাগর হোসেন, সুজন শহীদ হন।

পরবর্তী প্রক্রিয়া

শুনানি শেষে চিফ প্রসিকিউটর জানান, এসব অপরাধ শাস্তিযোগ্য এবং আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের প্রার্থনা করা হচ্ছে। পরবর্তী শুনানি বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ধার্য করা হয়েছে। এদিন সকালে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে পলককে হাজির করা হয়। সজীব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম মামলা পরিচালনা করেছেন।

উপসংহার: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই শুনানি বাংলাদেশের ইতিহাসে জুলাই আন্দোলন ও মানবতাবিরোধী মামলার গুরুত্বকে নতুনভাবে প্রমাণ করছে। ভিডিও প্রমাণ ও সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে যাচ্ছে, যা দেশের বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

Source: Based on reporting from Dhaka Post

Next Post Previous Post

Advertisement