মা ইয়েস বললে ওপেন, নো বললে ব্লক’ — ইন্টারনেট বন্ধে পলককে জয়
সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করার নির্দেশ দেয়ার সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ফোনে নির্দেশ দিয়েছিলেন, “যখন মা বলবেন সিগন্যাল ইয়েস, তখন ওপেন; যখন বলবেন নো, তখন ব্লক।” এই কথোপকথন ট্রাইব্যুনাল-১ এ প্রকাশ করা হয়েছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেলে এই কথোপকথন উপস্থাপন করা হয়। চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম অভিযোগ গঠনের শুনানিতে জানান, জুলাই-আগস্টে ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। এ সময় তাদের তিনটি অভিযোগ পড়া হয় এবং অডিও-ভিডিও প্রমাণও প্রদর্শন করা হয়।
প্রসিকিউশনের বক্তব্য
সাংবাদিকদের কাছে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সরকার পরিকল্পিতভাবে প্রথমে ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেয়, পরে পুরোপুরি বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। বিশ্বের কাছে এই তথ্য আড়াল করতে ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছিল।” তিনি আরও জানান, আন্দোলনকারীরা যাতে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারেন, সেই পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা হয়।
প্রসিকিউটর জানান, ইন্টারনেট বন্ধ রাখার প্রমাণ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়েছে আসামিদের ফোনালাপের রেকর্ড। এনটিএমসি প্রতিষ্ঠান রেকর্ড করেছিল, যা তৎকালীন সরকারের ব্যবহারে ছিল। কথোপকথনে জয় পলককে নির্দেশ দেন যে আটটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাপ বন্ধ বা চালু করতে হবে। জয় বলেন, “তুমি রেডি থাকো। তোমার সম্ভাব্য সবকিছু সক্ষমতা নিয়ে। যখন মা বলবেন সিগন্যাল ইয়েস, তখন ওপেন। যখন বলবেন নো, তখন ব্লক।”
পরবর্তী প্রক্রিয়া
প্রসিকিউটর উল্লেখ করেন, ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছিল সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে। এই ইন্টারনেট বন্ধের প্রমাণ হিসেবে সরকারি চিঠি ও নথি-উপাত্ত ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়েছে। রোববার শুনানি শেষ হয়েছে, আগামী ১৫ জানুয়ারি আসামিপক্ষের ডিসচার্জ (অব্যাহতি) শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্ত নেবে অভিযোগ গঠন হবে কিনা।
উপসংহার: ট্রাইব্যুনালে উন্মোচিত ফোনালাপ ও অন্যান্য প্রমাণ ইঙ্গিত দেয়, জুলাই আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট সেবা বন্ধের পেছনে পরিকল্পিত নির্দেশ ও দায়িত্বশীলতা ছিল। এটি মানবতাবিরোধী মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করছে।
Source: Based on reporting from Dhaka Post
