জুলাই হত্যা মামলায় ট্রাইব্যুনালে প্রথম জামিন পেলেন আসামি

জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রথমবারের মতো জামিন পেয়েছেন হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী। ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারিক প্যানেল রোববার (১১ জানুয়ারি) শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করেন। হুমায়ুন কবির লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চররুহিতা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান।

আদালতের জামিনের শর্তাবলী

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেল জামিন মঞ্জুর করেন। শুনানিতে আসামিপক্ষ উল্লেখ করেন, হুমায়ুন কবির লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। তার দুই ভাইও একই রোগে মৃত্যুবরণ করেছেন। প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম আদালতকে জানান, গুরুতর অসুস্থতার হাসপাতালের প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে এবং এই অবস্থায় বিরোধিতা করা যায় না।

শর্তসাপেক্ষে জামিনে বলা হয়েছে, আসামিকে বাসার ঠিকানা দিতে হবে, গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো বক্তব্য দিতে পারবেন না, এবং বাসা পরিবর্তন করতে হলে ট্রাইব্যুনাল ও তদন্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করতে হবে। এছাড়া সাক্ষ্য-প্রমাণকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা যাবে না। এই শর্ত ভঙ্গ করলে আসামিকে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করা যাবে।

মামলার প্রেক্ষাপট

হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যা মামলায় এটি প্রথম জামিন। তিনি প্রথমে ২০২৪ সালের আগস্টে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার হন। এ মামলার অন্যান্য আসামি হলেন—লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দিঘলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন জাবেদ ও জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন আলম। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

আইন ও সামাজিক প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, এই জামিন আদেশ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা পরিচালনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, কারণ এটি আদালতের শর্তসাপেক্ষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধের তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের স্বচ্ছতা রক্ষার লক্ষ্য নির্ধারণ করছে। এ ধরনের শর্তপূরক জামিন দেশের বিচারব্যবস্থার উপর জনগণের আস্থা বৃদ্ধিতেও সহায়ক হতে পারে।

উপসংহার: জুলাই হত্যাকাণ্ড মামলায় প্রথম জামিনের ঘটনায় আদালতের ন্যায়পরায়ণতা ও প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টার পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে। হুমায়ুন কবিরের জামিন এ মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার গতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

Source: Based on reporting from Dhaka Post

Next Post Previous Post

Advertisement