বিএনপির গুলশান কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার যুবক রিমান্ডে
বিএনপির গুলশান কার্যালয়ের সামনে থেকে গ্রেপ্তার হওয়া যুবক ইনামে হামীমকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতির একটি মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এই রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তার গতিবিধি সন্দেহজনক ছিল এবং তার কাছ থেকে একাধিক ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। মামলাটি তদন্ত করছে গুলশান থানা পুলিশ।
আদালতে হাজির ও রিমান্ড শুনানি
এদিন গুলশান থানায় দায়ের করা প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতির মামলায় ইনামে হামীমকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, গুলশান থানার উপপরিদর্শক শেখ সাইফুল ইসলাম আসামির সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে—আসামি অসৎ উদ্দেশ্যে নিজের ছবি ব্যবহার করে একাধিক ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরি করেছেন। এসব নকল পরিচয়পত্র ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে অপরাধ সংঘটনের পরিকল্পনা ছিল বলে তদন্তে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
নির্বাচন ঘিরে সন্দেহজনক গতিবিধির অভিযোগ
পুলিশের আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ইনামে হামীম বিএনপির গুলশান কার্যালয়ের আশপাশে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন। তার কর্মকাণ্ড নাশকতার উদ্দেশ্যে হতে পারে—এমন সন্দেহও তদন্তে উঠে এসেছে।
আবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তির কাছে থাকা ভুয়া এনআইডিগুলো ভবিষ্যতে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার হতে পারত বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে মামলার অভিযোগের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলছে বলেও দাবি করেছে পুলিশ।
রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি
রাষ্ট্রপক্ষে রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন সরকারি কৌঁসুলি মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন। তিনি আদালতকে জানান, মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, নকল পরিচয়পত্র তৈরির পেছনের চক্র শনাক্ত এবং সম্ভাব্য অপরাধ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য রিমান্ড প্রয়োজন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। তিনি দাবি করেন, আসামিকে হয়রানি করা হচ্ছে এবং রিমান্ড ছাড়া তদন্ত সম্ভব। তবে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত সাত দিনের পরিবর্তে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গ্রেপ্তার ও উদ্ধারকৃত আলামত
এর আগে রোববার বিকেল প্রায় ৩টা ৪০ মিনিটে ইনামে হামীমকে গুলশানের ৮৬ নম্বর রোডে অবস্থিত বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে আটক করে চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার কথাবার্তা অসংলগ্ন মনে হওয়ায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
পরে পুলিশের তল্লাশিতে তার কাছ থেকে তিনটি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং বিভিন্ন ব্যাংকের পাঁচটি চেক বই উদ্ধার করা হয়। এসব আলামতের ভিত্তিতে গুলশান থানায় তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতির মামলা দায়ের করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিশ্লেষণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীতে নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বেড়েছে। সন্দেহজনক পরিচয়পত্র ও আর্থিক নথি উদ্ধারের মতো ঘটনা নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠছে।
তদন্ত শেষে এই ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য ও এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত কি না, তা স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Source: Based on reporting from আমার দেশ অনলাইন
