যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি অনুমোদন স্থগিতের পথে ইউরোপ

ব্রাসেলস — যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তি অনুমোদনের বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) স্থগিত পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। বিভিন্ন সদস্য দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদ্বেগ, পাশাপাশি মার্কিন শুল্ক নীতি এবং কৌশলগত দিক নিয়ে দ্বিধার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে সূত্রগুলো জানাচ্ছে।

চুক্তি কী

যুক্তরাষ্ট্র-ইইউ বাণিজ্য চুক্তি মূলত জ্বালানি, কৃষি, প্রযুক্তি ও ভোক্তাপণ্য খাতে মুদ্রাস্ফীতি ও শুল্ক কমানো, বাজার প্রবেশ ও প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে আলোচনা করা হয়েছিল। চুক্তি কার্যকর হলে দুই পক্ষের ব্যবসায়ী ও উৎপাদকদের জন্য সুবিধাজনক হবে বলে মনে করা হচ্ছিল।

ইউরোপের উদ্বেগ

ইইউর সদস্য দেশগুলো মার্কিন শুল্ক ও বাণিজ্য নীতির পরিবর্তনশীল প্রকৃতির কারণে দ্বিধায় আছে। বিশেষ করে শিল্প ও কৃষি খাতের প্রতিনিধিরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, চুক্তি অনুমোদন করলে তাদের স্থানীয় বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া, রাজনৈতিক চাপ এবং স্থানীয় জনমতও স্থগিতকরণের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মার্কিন দিকনির্দেশনা

যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে বেশ কিছু খাতে শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ধরনের পদক্ষেপ চুক্তির প্রাক-শর্ত এবং বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার প্রশ্ন তুলেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ কারণেই ইউরোপ অনুমোদন স্থগিতের পথে এগোচ্ছে।

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রভাব

ইইউর স্থগিত সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। এটি কেবল মার্কিন-বাংলাদেশ বা অন্যান্য এশীয় দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ককেই প্রভাবিত করবে না, বরং বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন ও মূল্য স্থিতিশীলতাতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষক মন্তব্য

বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তি অনুমোদন স্থগিত করে ইইউ কৌশলগত সময় কিনছে। তারা মার্কিন নীতির স্পষ্টতা, বিশ্ব বাজারের অবস্থা এবং সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে স্থগিতকরণের ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে।

উপসংহার

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি অনুমোদন স্থগিতের পথে ইউরোপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে কৌশলগত ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি মূলত সুরক্ষা ও প্রস্তুতির চেষ্টার প্রতিফলন, তবে বৈশ্বিক বাজারে প্রভাব কতটা পড়বে, তা সময়ই জানাবে।

Next Post Previous Post

Advertisement