হাদির হত্যার প্রতিবাদে যোগ দেওয়ায় ছাত্রদল নেতার পদ স্থগিত
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ক্যাম্পাস রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের এক নেতার পদ স্থগিতকে কেন্দ্র করে। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মেহেদি হাসান বাঁধনের সাংগঠনিক পদ তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ।
ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, সংগঠনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির সিদ্ধান্তটি অনুমোদন করেছেন।
যে প্রেক্ষাপটে সিদ্ধান্ত
গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে সারাদেশের মতো নোবিপ্রবিতেও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। ওই কর্মসূচিতে দলমত নির্বিশেষে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশ নিতে দেখা যায়। তবে প্রথম দফার এই বিক্ষোভে ছাত্রদলের নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নেননি। পরে আলাদাভাবে ছাত্রদলের ব্যানারে আরেকটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, প্রথম দফার শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মেহেদি হাসান বাঁধন। এই অংশগ্রহণকেই সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ হিসেবে দেখছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। এর কয়েক দিনের মধ্যেই ২২ ডিসেম্বর তাঁর পদ স্থগিতের ঘোষণা আসে।
কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের বক্তব্য
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদল জানায়, সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত কর্মসূচির বাইরে গিয়ে কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শৃঙ্খলা পরিপন্থী। সেই বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট নেতার বিরুদ্ধে সাময়িক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, তদন্ত ও পর্যালোচনার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
নেতৃত্বের ব্যাখ্যা ও প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী ছাত্রদল শরীফ ওসমান হাদিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হাদি হত্যার প্রতিবাদে নোবিপ্রবিতে সক্রিয় রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে ছাত্রদলই আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচি পালন করেছে। তবে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ নিয়ম ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অন্যদিকে পদ স্থগিত হওয়া মেহেদি হাসান বাঁধনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “এই মুহূর্তে এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারছি না।”
ক্যাম্পাস রাজনীতিতে প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা ক্যাম্পাস রাজনীতিতে শৃঙ্খলা বনাম মতপ্রকাশের স্বাধীনতা—এই পুরোনো বিতর্ককে আবার সামনে এনেছে। অনেক শিক্ষার্থী মনে করছেন, একটি হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রশ্ন তৈরি করছে। আবার সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দলীয় সিদ্ধান্ত ও কাঠামো বজায় রাখাই তাদের অগ্রাধিকার।
এই পরিস্থিতি নোবিপ্রবিসহ অন্যান্য ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির ভবিষ্যৎ ভূমিকা ও সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। আগামী দিনে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং এর প্রভাব শিক্ষার্থী রাজনীতিতে কতটা পড়ে, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।
Source: Based on reporting from Dhaka Post
