ভারত প্রথম’ নীতি থেকে সরে গেছে যুক্তরাষ্ট্র, ঝুঁকছে পাকিস্তানের দিকে
দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেওয়া ‘ভারত প্রথম’ নীতি থেকে সরে এসে ওয়াশিংটন এখন পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালকে যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্কের জন্য একটি ‘বিপ্লবী পরিবর্তনের বছর’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত সংঘাত এবং পরবর্তী চার দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। এই সংঘাতের সময় পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতা, শৃঙ্খলা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া ওয়াশিংটনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।
সংঘাতের পটভূমি ও নীতির পরিবর্তন
ওয়াশিংটন টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের এপ্রিলে জম্মু ও কাশ্মিরের পেহেলগামে এক সন্ত্রাসী হামলার পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই হামলার জেরে মে মাসে ভারত পাকিস্তানের ভেতরে মিসাইল হামলা চালায়। জবাবে পাকিস্তানও পাল্টা আঘাত হানে। চার দিন ধরে চলা এই সংঘর্ষে দুই দেশের সামরিক শক্তির সরাসরি পরীক্ষা হয়।
সংবাদমাধ্যমটির দাবি, এই যুদ্ধের পরই যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে পাকিস্তানকে ঘিরে ধারণার পরিবর্তন আসে। আগে যাকে ‘অনির্ভরশীল মিত্র’ হিসেবে দেখা হতো, এখন সেই পাকিস্তানই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ এশিয়া নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে উঠছে।
পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন মূল্যায়ন
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সংঘাতের আগে যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা ছিল ভারতের তুলনায় পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা সীমিত। তবে যুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতা সেই মূল্যায়ন বদলে দিয়েছে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর কৌশলগত পরিকল্পনা, লক্ষ্য নির্ধারণ এবং প্রযুক্তিগত ব্যবহারে দক্ষতা মার্কিন প্রশাসনের কাছে বিস্ময়কর বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
এমনকি ২০২৫ সালের শুরুতেও ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে পাকিস্তান ছিল কূটনৈতিকভাবে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন, রাজনৈতিকভাবে অনিশ্চিত এবং তালেবানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ। কিন্তু বছরের শেষ দিকে এসে সেই চিত্র পুরোপুরি পাল্টে গেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতিগত পরিবর্তন দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শক্তিশালী হলেও, পাকিস্তানের প্রতি নতুন করে আগ্রহ ভারতের জন্য কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশসহ আঞ্চলিক দেশগুলোর জন্যও এই পরিবর্তন তাৎপর্যপূর্ণ। দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তির ভারসাম্য বদলালে নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
দ্রুততম নীতিগত রূপান্তরের দাবি
ওয়াশিংটন টাইমসের প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্কের এই পরিবর্তনকে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির ইতিহাসে দ্রুততম রূপান্তরের একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কয়েক মাসের ব্যবধানে পাকিস্তানকে সন্দেহের চোখে দেখা থেকে সম্ভাব্য প্রধান মিত্র হিসেবে বিবেচনা করা—এই পরিবর্তন ওয়াশিংটনের কৌশলগত অগ্রাধিকারে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দেয়।
তবে বাস্তবে এই নীতি কতটা টেকসই হবে এবং ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এতে কতটা প্রভাবিত হবে, তা সময়ই বলে দেবে। আপাতত স্পষ্ট যে, দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মানচিত্র নতুন করে আঁকা হচ্ছে।
Source: Based on reporting from Washington Times, as published by Dhaka Post
