যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে দেশের সম্ভাবনা কাজে লাগেনি: শিবির সভাপতি

যোগ্য ও দূরদর্শী নেতৃত্বের অভাবে বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগেনি—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, বেকারত্ব, মাদকাসক্তি এবং নৈতিক অবক্ষয় সমাজকে গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই বাস্তবতায় ছাত্রসমাজকে সংগঠিত করে একটি নতুন সামাজিক ও নৈতিক জাগরণ তৈরির আহ্বান জানান তিনি।

শুক্রবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলন ২০২৫-এ সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জাহিদুল ইসলাম। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

নেতৃত্ব সংকট ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ

জাহিদুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী দেশকে এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা রাখলেও সঠিক নেতৃত্বের অভাবে সেই শক্তি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। তার দাবি, কর্মসংস্থানের অভাব তরুণদের হতাশ করছে, আর মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় সেই হতাশাকে আরও গভীর করছে।

তিনি উল্লেখ করেন, এই সংকট মোকাবিলায় শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চাও জরুরি। তার ভাষায়, ছাত্রশিবির চরিত্র গঠন, সৃজনশীল চিন্তা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমে ছাত্রসমাজকে দায়িত্বশীল নাগরিকে পরিণত করতে কাজ করছে।

বিগত সরকারের সমালোচনা

বক্তব্যে জাহিদুল ইসলাম বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশে দুর্নীতি, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং জবাবদিহিতার অভাব ছিল। তার মতে, এসব কারণে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থা ক্ষুণ্ন হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভোটাধিকার হরণ, ভিন্নমতের ওপর দমননীতি এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে একটি ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। ইসলামী মূল্যবোধ দমনের অভিযোগও তোলেন তিনি। এসব বক্তব্য রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, যার বিষয়ে সরকার বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

হত্যা ও বিচার প্রসঙ্গ

জাহিদুল ইসলাম তার বক্তব্যে অতীত সহিংসতার প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক সংঘাত ও দমননীতির শিকার হয়ে ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন সংগঠনের বহু নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, জুলাই মাসের ঘটনাগুলোর বাইরেও ১৯৭৭ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে মোট ২৩৮ জন হত্যার শিকার হয়েছেন।

তিনি এসব ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন এবং বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ছাড়া টেকসই গণতন্ত্র ও সামাজিক স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়।

ছাত্ররাজনীতি ও ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি

ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, সংগঠনটি একটি মানবিক, বৈষম্যহীন ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করতে চায়। তার মতে, ছাত্ররাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য দক্ষ ও সৎ নেতৃত্ব তৈরি করা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ছাত্রসংগঠনগুলোর বক্তব্য ও ভূমিকা ভবিষ্যৎ রাজনীতির ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে এসব দাবি ও সমালোচনার বাস্তবতা যাচাই এবং বিভিন্ন পক্ষের অবস্থান বোঝা জরুরি।

উপসংহার

যোগ্য নেতৃত্বের অভাব, সামাজিক অবক্ষয় এবং রাজনৈতিক জবাবদিহিতার প্রশ্ন তুলে জাহিদুল ইসলামের বক্তব্য চলমান রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই বক্তব্য কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক অঙ্গনে এসব দাবির প্রতিফলন এবং জনগণের প্রতিক্রিয়ার ওপর।

Source: Based on reporting from Amar Desh Online.

Next Post Previous Post

Advertisement