৩০ লাখ ফলোয়ারের ফেসবুক পেইজ হারালেন আসিফ মাহমুদ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রায় ৩০ লাখ অনুসারী থাকা নিজের ভেরিফায়েড পেজ হারানোর অভিযোগ করেছেন সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা ও রাজনৈতিক সংগঠক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে কেন্দ্র করে দেওয়া কিছু পোস্ট ও ভিডিওতে সংঘবদ্ধভাবে রিপোর্টের ফলে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ তার পেজটি সরিয়ে দিয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

শুক্রবার নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত এবং বিপুলসংখ্যক অনুসারী থাকা অফিশিয়াল পেজটি হঠাৎ করেই রিমুভ হয়ে যায়, যা তাকে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

সংঘবদ্ধ রিপোর্টের অভিযোগ

নিজের পোস্টে আসিফ মাহমুদ লেখেন, শরীফ ওসমান হাদিকে নিয়ে দেওয়া সব পোস্ট ও ভিডিওতে একযোগে রিপোর্ট করা হয়। তার দাবি অনুযায়ী, একাধিক টেলিগ্রাম গ্রুপে লিংক শেয়ার করে সংঘবদ্ধভাবে রিপোর্টের আয়োজন করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, হাদিকে নিয়ে প্রকাশিত তিনটি ভিডিওতেই একযোগে স্ট্রাইক পড়ে। এসব স্ট্রাইকের পরপরই ফেসবুক কর্তৃপক্ষ তার পুরো পেজটি সরিয়ে নেয়। বিষয়টিকে তিনি পরিকল্পিত ডিজিটাল আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করেন।

ফেসবুকের নীতিমালা ও বাস্তবতা

ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী, সহিংসতা, ঘৃণামূলক বক্তব্য বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের অভিযোগে কোনো পেজ বা ভিডিওতে একাধিক স্ট্রাইক পড়লে তা সাময়িক বা স্থায়ীভাবে অপসারণ করা হতে পারে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই কনটেন্ট নির্মাতারা অভিযোগ করেন, সংঘবদ্ধ রিপোর্টের কারণে বৈধ কনটেন্টও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ডিজিটাল অধিকার বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল সময়গুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিপোর্ট-ভিত্তিক অপসারণ একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

নির্বাচনী প্রেক্ষাপট

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১০ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন। নির্বাচনের আগমুহূর্তে তার বড় একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হারানোকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন অনেকেই।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রার্থীদের জন্য ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর একটি প্রধান মাধ্যম। সে ক্ষেত্রে একটি বড় ফলোয়ারভিত্তিক পেজ হারানো নির্বাচনী প্রচারণায় প্রভাব ফেলতে পারে।

পদত্যাগ ও রাজনৈতিক অবস্থান

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগের দিন অন্তর্বর্তী সরকারের দুই ছাত্র উপদেষ্টা—আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম—পদত্যাগ করেন। এরপর থেকেই তারা সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয় হন।

এই প্রেক্ষাপটে আসিফ মাহমুদের ফেসবুক পেজ অপসারণের ঘটনা শুধু একটি প্রযুক্তিগত বিষয় নয়; বরং এটি রাজনৈতিক ও ডিজিটাল বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবেও আলোচনায় এসেছে।

উপসংহার

৩০ লাখ ফলোয়ারের একটি অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ হারানোর ঘটনা আসিফ মাহমুদের ব্যক্তিগত অভিযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এটি রাজনৈতিক প্রচারণা, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নীতিমালা—এই তিনটির সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ঘটনা। বিষয়টি নিয়ে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না আসা পর্যন্ত বিতর্ক অব্যাহত থাকবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

Source: Based on reporting from Amar Desh Online.

Next Post Previous Post

Advertisement