মনোনয়নপত্র তুললেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার তৌফিকুর রহমান। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার এই পদক্ষেপ স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

গত বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকালে রায়পুরা উপজেলা পরিষদ কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়। ব্যারিস্টার তৌফিকুর রহমানের পক্ষে তার ব্যক্তিগত সহকারী সানাউল্লাহ সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানার কাছ থেকে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন।

প্রশাসনের বক্তব্য

এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানান, “তৌফিকুর রহমান নামে একজন ব্যক্তি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী আবেদনকারীকে মনোনয়নপত্র সরবরাহ করা হয়েছে।” তিনি বলেন, প্রার্থী যে পরিচয়েই আসুন না কেন, নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করেই মনোনয়নপত্র দেওয়া হয়।

পারিবারিক পরিচয় ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

ব্যারিস্টার তৌফিকুর রহমানের পারিবারিক পরিচয় তাকে জাতীয় পর্যায়ে আলোচিত করে রেখেছে। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেজো বোন আমেনা বেগম এবং শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাতের নাতি। এই ঐতিহাসিক পারিবারিক পটভূমির কারণে রাজনীতির মাঠে তার উপস্থিতি সবসময়ই বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে এসেছে।

যদিও তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, তবে এবার তিনি দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; বরং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি কৌশলগত অবস্থানও হতে পারে।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক আলোচনা

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় এই মনোনয়নপত্র সংগ্রহের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ এটিকে আসন্ন নির্বাচনের আগে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের একজন কেন্দ্রীয় নেতার প্রার্থী হওয়া নিয়ে আইনগত ও রাজনৈতিক প্রশ্ন সামনে আসতে পারে।

সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও বিষয়টি কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই জানতে চাইছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি কতটা জনসমর্থন অর্জন করতে পারবেন এবং তার প্রার্থিতা নির্বাচনী মাঠে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে।

নির্বাচনী বাস্তবতা ও সম্ভাব্য প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, নরসিংদী-৫ আসনটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে ব্যারিস্টার তৌফিকুর রহমানের প্রার্থিতা ভোটের হিসাব-নিকাশে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, যাচাই-বাছাই শেষে প্রার্থিতা চূড়ান্ত হবে। সে সময় তার মনোনয়ন গ্রহণযোগ্যতা এবং নির্বাচনী কৌশল আরও স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উপসংহার

নরসিংদী-৫ আসনে ব্যারিস্টার তৌফিকুর রহমানের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ শুধু একটি প্রশাসনিক ঘটনা নয়; বরং এটি স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার নতুন খোরাক যোগ করেছে। আগামী দিনে তার নির্বাচনী কার্যক্রম এবং ভোটারদের প্রতিক্রিয়া এই আসনের রাজনৈতিক চিত্র কতটা বদলায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Source: Based on reporting from Amar Desh Online.

Next Post Previous Post

Advertisement