সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চায় জামায়াতে ইসলামী

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেইং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজাহারুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও ভয়মুক্ত নির্বাচনী পরিবেশ গড়ে তুলতে অন্তর্বর্তী সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

শুক্রবার রংপুরের বদরগঞ্জে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি। এটিএম আজাহারুল ইসলাম রংপুর-২ আসন (তারাগঞ্জ–বদরগঞ্জ) থেকে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী। বক্তব্যে তিনি নির্বাচনী পরিবেশ, অর্থনীতি, শিল্প, কর্মসংস্থান ও স্থানীয় উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।

ভয়মুক্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশের দাবি

এটিএম আজাহারুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব দল যেন সমানভাবে প্রচার-প্রচারণার সুযোগ পায়, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাঁর মতে, ভোটকেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে মানুষের মনে কোনো ভয় বা শঙ্কা থাকা উচিত নয়। তিনি নির্বাচন কমিশনকে আরও উদার ও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান, যাতে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন না ওঠে।

তিনি আরও বলেন, একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক শান্তির ভিত্তি তৈরি করতে পারে। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অর্থপাচার ও উন্নয়ন প্রসঙ্গে বক্তব্য

দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে জামায়াতের এই নেতা দাবি করেন, বিগত সরকারের সময়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এই অর্থ দেশেই বিনিয়োগ হলে শিক্ষা, শিল্প ও কর্মসংস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব ছিল। তিনি বলেন, দক্ষ ও শিক্ষিত যুবসমাজকে কাজে লাগিয়ে শিল্পায়ন জোরদার করা গেলে বাংলাদেশ আরও দ্রুত উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে পৌঁছাতে পারত।

এ বক্তব্যে তিনি অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ও সুশাসনের গুরুত্বের ওপর জোর দেন, যা জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক দর্শনের একটি মূল অংশ বলে উল্লেখ করেন।

রংপুর-২ আসনের জন্য উন্নয়ন পরিকল্পনা

নির্বাচিত হলে স্থানীয় উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এটিএম আজাহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শ্যামপুর চিনিকল পুনরায় চালু করা হলে এ অঞ্চলের শত শত বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং কৃষকদের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা খুলে যাবে।

এ ছাড়া বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ উপজেলার হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংখ্যা বাড়ানো, আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা যুক্ত করা এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ খাতের উন্নয়ন ছাড়া টেকসই সামাজিক অগ্রগতি সম্ভব নয়।

শান্তিপূর্ণ সমাজ ও সাংবাদিকদের ভূমিকা

জামায়াত নায়েবে আমির বলেন, সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠাই তাদের রাজনৈতিক লক্ষ্য। এ জন্য দল থেকে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে শোষণ ও বঞ্চনামুক্ত, ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, গণমাধ্যমকর্মীরা সমাজের বিবেক হিসেবে কাজ করেন। কল্যাণকর সমাজ গঠনে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ও সত্যনিষ্ঠ ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। পুরো আয়োজনটি স্থানীয় রাজনীতিতে আসন্ন নির্বাচন ঘিরে আলোচনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Source: Based on reporting from Dhaka Post

Next Post Previous Post

Advertisement