বাবার কবরের পাশে কাঁদলেন তারেক রহমান

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফেরার পরদিনই বাবা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানালেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়াউর রহমানের সমাধিতে তাঁর উপস্থিতি ঘিরে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। কবর জিয়ারত শেষে নীরবে কিছু সময় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় তাকে; একপর্যায়ে চোখের পানি মুছতে দেখা গেলে উপস্থিত অনেক নেতাকর্মীও আবেগ সংবরণ করতে পারেননি।

শুক্রবার বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে তারেক রহমান সমাধি প্রাঙ্গণে পৌঁছান। সেখানে তিনি প্রথমে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, এরপর ফাতেহা পাঠ ও দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেন। আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি পাশে থাকা নেতাকর্মীদের সরে যেতে অনুরোধ করেন এবং একান্তে বাবার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এই সময়টুকু ছিল অত্যন্ত নীরব ও ভারী আবেগে ভরা।

দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক মুহূর্ত

দীর্ঘদিন পর মাতৃভূমিতে ফিরে বাবার সমাধিতে দাঁড়ানো তারেক রহমানের জন্য শুধু পারিবারিক আবেগের নয়, বরং রাজনৈতিক জীবনেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শহীদ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক প্রভাবশালী ও ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব, যিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন অনেক বিএনপি নেতার মতে, দলের আদর্শ ও ইতিহাসের সঙ্গে তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ সংযোগের প্রতীক।

বিএনপির একাধিক নেতা মনে করছেন, এই দৃশ্য সাধারণ মানুষের মাঝেও সহমর্মিতা ও আবেগ তৈরি করেছে। দীর্ঘ নির্বাসনের কারণে এত বছর বাবার কবর জিয়ারত করতে না পারার বিষয়টি তারেক রহমানের ব্যক্তিগত বেদনার জায়গা ছিল বলে জানান তারা।

নিরাপত্তা ও জনসমাগম

এর আগে শুক্রবার দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে গুলশানের বাসভবন থেকে শেরেবাংলা নগরের উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান। পথে বিজয় সরণি মোড়ে নেতাকর্মীদের ভিড়ে তার গাড়িবহর কিছু সময়ের জন্য আটকে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ব্যবস্থা নেন এবং বহরটি নিরাপদে এগিয়ে নেওয়া হয়।

সমাধি প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর পাশাপাশি দলীয় স্বেচ্ছাসেবকরাও শৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা রাখেন।

১৭ বছর পর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন

এর একদিন আগে, ২৫ ডিসেম্বর, দীর্ঘ ১৭ বছর পর লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। তাকে অভ্যর্থনা জানাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার বিভিন্ন প্রবেশপথে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন। দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই অভ্যর্থনা ছিল নজিরবিহীন। ঢাকার বেশ কয়েকটি এলাকায় মানুষের ঢল নামায় পুরো মহানগরী একসময় জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ও পরদিন বাবার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করতে পারে। আবেগ, ইতিহাস ও রাজনীতির এই সম্মিলন দলটির ভবিষ্যৎ কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

সব মিলিয়ে, বাবার কবরের পাশে তারেক রহমানের নীরব অশ্রু ছিল একদিকে ব্যক্তিগত শোকের প্রকাশ, অন্যদিকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর এক প্রতীকী ও স্মরণীয় প্রত্যাবর্তনের দৃশ্য।

Source: Based on reporting from Amader Desh Online

Next Post Previous Post

Advertisement