ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ২০২৬ সালে যুদ্ধ বাঁধতে পারে

দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী পর্যবেক্ষক সংস্থা দ্য কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্স (CFR)। সংস্থাটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও পারস্পরিক অবিশ্বাস বাড়তে থাকলে ২০২৬ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি সশস্ত্র যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এই সতর্কতা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন চলতি বছরেই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ভয়াবহ সামরিক সংঘর্ষ দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

সন্ত্রাসী হামলা থেকে সামরিক সংঘর্ষ

CFR-এর বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মিরে সন্ত্রাসী হামলার ধারাবাহিকতা এবং এর জেরে নেওয়া সামরিক পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে কাশ্মিরের পেহেলগামে এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হন।

ওই ঘটনার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে মে মাসে সীমান্ত অতিক্রম করে হামলা চালায় ভারত। এর জবাবে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় পাকিস্তানও। ফলে টানা চার দিন ধরে দুই দেশের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর সামরিক উত্তেজনা হিসেবে বিবেচিত হয়।

মিসাইল হামলা ও যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি

ভারতীয় সেনাবাহিনী ৭ মে ভোরে পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে বলে জানায় নয়াদিল্লি। পাল্টা জবাবে পাকিস্তান দাবি করে, তারা ভারতের একাধিক যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, ভূপাতিত যুদ্ধবিমানের মধ্যে ফ্রান্সের তৈরি অত্যাধুনিক রাফায়েল বিমানও ছিল।

যদিও এসব দাবি নিয়ে দুই দেশের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে, তবে সংঘর্ষের মাত্রা যে ভয়াবহ ছিল—তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কোনো দ্বিমত নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা ও রাজনৈতিক বাস্তবতা

চার দিনের সংঘর্ষের পর যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে ভারত সরকার প্রকাশ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের এই ভূমিকা স্বীকার করেনি। CFR-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তৎকালীন ট্রাম্প প্রশাসন পর্দার আড়ালে নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো শক্তিশালী মধ্যস্থতাকারীর অনুপস্থিতিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

এখনো উত্তপ্ত সীমান্ত

বর্তমানে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। দুই দেশই সীমান্ত এলাকায় বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন রেখেছে। পাশাপাশি, যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটগুলোও সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রাখা হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই দীর্ঘমেয়াদি সামরিক প্রস্তুতি কেবল দুর্ঘটনাজনিত সংঘর্ষের ঝুঁকিই বাড়াচ্ছে না, বরং যেকোনো ছোট ঘটনার জেরে বড় যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি করছে।

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপট

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হলে এর প্রভাব বাংলাদেশসহ পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় পড়বে। আঞ্চলিক বাণিজ্য, নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে পারমাণবিক শক্তিধর দুই দেশের সংঘাত বিশ্ব রাজনীতিতেও বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

উপসংহার

মার্কিন পর্যবেক্ষক সংস্থার এই হুঁশিয়ারি নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক এখনো কতটা ভঙ্গুর। কার্যকর কূটনীতি ও আস্থা গঠনের উদ্যোগ না নিলে ২০২৬ সাল দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একটি বড় সংকটের বছর হয়ে উঠতে পারে—এমন আশঙ্কাই প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মহল।

Source: Based on reporting from Dhaka Post

Next Post Previous Post

Advertisement