খালেদা জিয়ার প্রতি নাহিদ ইসলামের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে এনসিপির একটি প্রতিনিধি দল শোক প্রকাশ করে শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে গিয়ে নাহিদ ইসলামসহ এনসিপির নেতারা এই শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন। রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে এই শ্রদ্ধা নিবেদনকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সৌজন্যের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
শোক বইয়ে স্বাক্ষর ও সংক্ষিপ্ত বক্তব্য
শোক বইয়ে স্বাক্ষর শেষে নাহিদ ইসলাম বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন মনোভাব ও দৃঢ় নেতৃত্ব বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী এবং মুক্তিকামী মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে খালেদা জিয়ার ভূমিকা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “বাংলাদেশকে আধিপত্যবাদমুক্ত রাখা এবং একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ার সংগ্রামে বেগম খালেদা জিয়া ভবিষ্যতেও মানুষের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন।”
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এনসিপির অবস্থান
জাতীয় নাগরিক পার্টি তুলনামূলক নতুন রাজনৈতিক শক্তি হলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে সক্রিয় অবস্থান নিচ্ছে দলটি। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তাদের আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধাজ্ঞাপন দেশের রাজনীতিতে পারস্পরিক সম্মান ও সৌহার্দ্যের বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন সময়ে এই শ্রদ্ধা নিবেদন রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যেখানে মতভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও জাতীয় নেতাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন গুরুত্বপূর্ণ।
খালেদা জিয়া: রাজনৈতিক প্রভাব ও উত্তরাধিকার
বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ছাপ রেখে গেছেন। তার নেতৃত্ব, সংগ্রাম ও আপসহীন অবস্থান একাধিক প্রজন্মের রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে আছে।
তার মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা শোক প্রকাশ করেছেন। এনসিপির এই শ্রদ্ধাজ্ঞাপন সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।
উপসংহার
খালেদা জিয়ার প্রতি নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে এনসিপির শ্রদ্ধাজ্ঞাপন রাজনৈতিক সহনশীলতা ও পারস্পরিক সম্মানের একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব ও রাজনৈতিক সংগ্রামের ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ভবিষ্যতেও আলোচিত ও স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Source: Based on reporting from আমার দেশ
