ড. রেদোয়ানকে মনোনয়ন দেওয়ার প্রতিবাদে কাফনের কাপড় পরে বিক্ষোভ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে বিএনপির মনোনয়ন ঘিরে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। দলটির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সাবেক এলডিপি মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদকে মনোনয়ন দেওয়ার প্রতিবাদে কাফনের কাপড় পরে বিক্ষোভে নেমেছেন স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেলে এই ব্যতিক্রমধর্মী কর্মসূচি পালিত হয়।
প্রতিবাদকারীরা চান্দিনা সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিক্ষোভ সমাবেশের পর একটি মিছিল নিয়ে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করেন। পরে চান্দিনা বাস স্টেশনের কাছে মহাসড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেন। এ সময় মহাসড়কে সাময়িক যানজট সৃষ্টি হয়।
মনোনয়ন সিদ্ধান্ত ঘিরে ক্ষোভ
স্থানীয় বিএনপি সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেন ড. রেদোয়ান আহমেদ। যোগদানের দিনই তাঁকে কুমিল্লা-৭ আসনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। এতে দীর্ঘদিন ধরে মনোনয়ন প্রত্যাশী চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আতিকুল আলম শাওন মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হন। এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তৃণমূল পর্যায়ে দীর্ঘদিন সংগঠন পরিচালনা ও মাঠে সক্রিয় থাকা নেতাদের মূল্যায়ন না করে হঠাৎ দলে যোগ দেওয়া একজন নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মতে, এই সিদ্ধান্ত দলীয় কর্মীদের মধ্যে হতাশা ও বিভাজন তৈরি করছে।
ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রভাব
বিক্ষোভ চলাকালে কাফনের কাপড় পরে মহাসড়কে অবস্থান নেওয়ায় আশপাশের এলাকায় চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই যানজট তৈরি হলে যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তি বাড়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের অনুরোধ জানানো হলেও সড়ক অবরোধের কারণে জনদুর্ভোগ তৈরি হওয়ায় ব্যবস্থা নিতে হয়েছে।
রাজনৈতিক পটভূমি
ড. রেদোয়ান আহমেদ ২০০৬ সালে বিএনপি ছেড়ে যান এবং ২০০৭ সালে কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের নেতৃত্বাধীন এলডিপিতে যোগ দিয়ে মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘদিন পর তিনি আবার বিএনপিতে ফিরে এসে সরাসরি মনোনয়ন পাওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, আতিকুল আলম শাওনের পরিবার চান্দিনার বিএনপি রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী। তাঁর বাবা খোরশেদ আলম ২০০৬ সালের পর চান্দিনা উপজেলা বিএনপির নেতৃত্ব দেন এবং ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২০১৮ সালে তাঁর মৃত্যুর পর শাওন উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব নেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ তাঁকেই মনোনয়নের জন্য প্রস্তুত বলে মনে করছিল।
ভবিষ্যৎ কী বলছে?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কুমিল্লা-৭ আসনে এই অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ দ্রুত সমাধান না হলে তা নির্বাচনী মাঠে দলের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তৃণমূলের ক্ষোভ প্রশমনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর স্থানীয় রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের।
সব মিলিয়ে, মনোনয়নকে কেন্দ্র করে চান্দিনার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন উত্তপ্ত। আগামী দিনে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না এলে আন্দোলনের মাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Source: Based on reporting from Dhaka Post
