তাইওয়ানে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত
ভূমিকম্পপ্রবণ তাইওয়ানে আবারও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে দেশটির উত্তর-পূর্ব উপকূলীয় এলাকায় রিখটার স্কেলে ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো খবর পাওয়া না গেলেও রাজধানী তাইপেসহ বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসনের (Central Weather Administration) তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৫ মিনিটে ইয়িলান কাউন্টির উপকূলের কাছে সাগরে এই ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭৩ কিলোমিটার গভীরে এবং ইয়িলান শহরের উত্তর-পূর্ব উপকূল থেকে আনুমানিক ৩২ কিলোমিটার দূরে।
তাইপে ও আশপাশে কম্পন অনুভূত
ভূমিকম্পের প্রভাব রাজধানী তাইপে পর্যন্ত অনুভূত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতের নীরবতা ভেঙে হঠাৎ ভবন কেঁপে ওঠায় অনেক বাসিন্দা আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় ও খোলা জায়গায় নেমে আসেন। বিশেষ করে উঁচু ভবনগুলোতে থাকা মানুষজন কয়েক সেকেন্ডের এই কম্পন স্পষ্টভাবে অনুভব করেন।
তবে ভূমিকম্পের গভীরতা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ এড়ানো গেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহে কর্তৃপক্ষ
তাইওয়ানের জাতীয় অগ্নিনির্বাপণ সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পরপরই জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলোকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো নিশ্চিত খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিভিন্ন এলাকায় ভবন, সড়ক ও ইউটিলিটি ব্যবস্থার অবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, উপকূলীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য ভূমিধস বা পরবর্তী কম্পনের ঝুঁকি বিবেচনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের ধারাবাহিকতা
চলতি মাসেই এটি তাইওয়ানে দ্বিতীয় বড় ভূমিকম্প। এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর দেশটির পূর্বাঞ্চলেও একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। সে সময় ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়েছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩১ দশমিক ৬ কিলোমিটার গভীরে এবং কেন্দ্রস্থল ছিল হুয়ালিয়েন শহর থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে সাগরে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক ভূমিকম্প আঘাত হানা তাইওয়ানের ভৌগোলিক বাস্তবতারই প্রতিফলন।
ভূমিকম্পপ্রবণ তাইওয়ান
তাইওয়ান প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর অংশ এবং দুটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে নিয়মিত ভূমিকম্প হয়ে থাকে। ইতিহাস বলছে, এসব ভূমিকম্প অনেক সময় ভয়াবহ রূপও নিয়েছে।
২০১৬ সালে তাইওয়ানের দক্ষিণাঞ্চলে সংঘটিত ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষ প্রাণ হারান। আর ১৯৯৯ সালে ৭ দশমিক ৩ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে দুই হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, যা দেশটির ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচিত।
সতর্কতার বার্তা
সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর আবারও দুর্যোগ প্রস্তুতির বিষয়টি সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক অবকাঠামো ও দ্রুত উদ্ধার ব্যবস্থার কারণে ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলক কম হলেও ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে বসবাসকারীদের সবসময় প্রস্তুত থাকা জরুরি।
বর্তমানে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে তাইওয়ানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী সময়ে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
Source: Based on reporting from Dhaka Post
