জামায়াত জোটে যেতে আপত্তি তাবাসসুমের, পোস্টে যা বললেন
জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ আট দলীয় একটি জোটে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব। এই জোটে যাওয়ার বিষয়ে এনসিপির ভেতরেই দেখা দিয়েছে স্পষ্ট মতভেদ। দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ২১৪ সদস্যের মধ্যে অন্তত ৩০ জন লিখিতভাবে আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম, যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান প্রকাশ করেছেন।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত পোস্টে নুসরাত তাবাসসুম লেখেন, “নীতির চাইতে রাজনীতি বড় নয়। কমিটমেন্ট ইজ কমিটমেন্ট।” এই বক্তব্যকে দলীয় আদর্শ ও পূর্বঘোষিত রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রশ্নে অনড় থাকার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
এনসিপির ভেতরে ক্রমবর্ধমান মতভেদ
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামীসহ প্রস্তাবিত আট দলীয় জোটে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে এনসিপির একাংশ শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে। তাঁদের যুক্তি, এই ধরনের জোট দলটির ঘোষিত রাজনৈতিক দর্শন ও সংস্কারমূলক অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। লিখিত আপত্তি জানানো ৩০ নেতার মধ্যে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদধারীও রয়েছেন।
এই অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসায় এনসিপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জোট রাজনীতি এনসিপির জন্য কতটা গ্রহণযোগ্য—তা নিয়েই বিতর্ক জোরালো হচ্ছে।
তাসনিম জারার সিদ্ধান্তের পর আলোড়ন
এর আগে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা দল থেকে পদত্যাগ করে ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত দলটির ভেতরের অসন্তোষকে আরও দৃশ্যমান করে তোলে।
ডা. তাসনিম জারার ঘোষণার পর এনসিপির তিন শীর্ষ নারী নেত্রী—সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, যুগ্ম সদস্যসচিব নুসরাত তাবাসসুম এবং যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. মাহমুদা মিতু—ফেসবুকে আলাদা আলাদা পোস্ট দেন, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
শীর্ষ নেত্রীদের প্রকাশ্য বার্তা
সামান্তা শারমিন তাঁর পোস্টে লেখেন, “আমরা লড়াই ছাড়ব না। আল্লাহ সহায়।” এই বক্তব্যকে অনেকেই চলমান রাজনৈতিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ সংকটের মধ্যেও সক্রিয় থাকার বার্তা হিসেবে দেখছেন।
নুসরাত তাবাসসুমের বক্তব্যে নীতিগত অবস্থান ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারের বিষয়টি সামনে আসে। অন্যদিকে ডা. মাহমুদা মিতু তাঁর পোস্টে পশ্চিমা প্রভাব ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন, যা দলটির ভেতরের আদর্শগত বিতর্কের ইঙ্গিত দেয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপির ভেতরে এই প্রকাশ্য মতভেদ দলটির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপি এখনো নিজেদের অবস্থান সুসংহত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জোট রাজনীতি নিয়ে দ্বন্দ্ব ভোটারদের কাছে বিভ্রান্তিকর বার্তা দিতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দলীয় ঐক্য বজায় রেখে আদর্শগত অবস্থান স্পষ্ট না করলে নির্বাচনী রাজনীতিতে এনসিপির পথ আরও কঠিন হতে পারে। একই সঙ্গে এই মতভেদ ভবিষ্যতে দলটির নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামোতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ
সব মিলিয়ে, জামায়াত–সমর্থিত জোটে যাওয়ার প্রশ্নে এনসিপির ভেতরের আপত্তি শুধু একটি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা নয়; বরং এটি দলটির আদর্শ, প্রতিশ্রুতি এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নিয়ে চলমান বিতর্কেরই প্রতিফলন। এই সংকট কীভাবে মোকাবিলা করে এনসিপি—সেদিকেই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের নজর।
Source: Based on reporting from Amar Desh Online
