হাদির পাশে দাঁড়ানোর মতো এই বাংলাদেশে কেউ নেই: রাবি উপাচার্য
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. সালেহ্ হাসান নকীব বলেছেন, ৩২ বছর বয়সী হাদি এমন একজন মানুষ ছিলেন, যার পাশে দাঁড়ানোর মতো মানুষ বর্তমানে বাংলাদেশে নেই। তিনি মন্তব্য করেন, সম্ভবত বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন খুব কম মানুষই ছিলেন, যিনি সমাজের সব স্তরের মানুষের ভালোবাসায় সমানভাবে সিক্ত হয়েছিলেন।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে রাকসুর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন উপাচার্য। সেমিনারের শিরোনাম ছিল— ‘বুদ্ধিবৃত্তিক, সাংস্কৃতিক ও ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণের লড়াইয়ে পথপ্রদর্শক একজন হাদি’।
ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লড়াই সহজ নয়
উপাচার্য ড. সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, ইনসাফ বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অর্থ কেবল নিজের গোষ্ঠী বা ঘনিষ্ঠদের পক্ষে দাঁড়ানো নয়। বরং মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য নিজের স্বার্থের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিতে হয়। তিনি বলেন, “ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে গেলে নিজের সঙ্গেই নিজের লড়াই করতে হবে। মানুষের অধিকার রক্ষা করতে গেলে ক্ষতির ঝুঁকি থাকবেই।”
তিনি আরও বলেন, হিংসা ও বিদ্বেষের মাধ্যমে কোনো দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। বরং ন্যায়ভিত্তিক মূল্যবোধই একটি সমাজকে টেকসই উন্নয়নের পথে নিয়ে যেতে পারে।
হাদির আদর্শ থেকে বিচ্যুতির সমালোচনা
হাদির অনুসারী দাবি করা অনেকের মধ্যেই ইনসাফের অভাব রয়েছে বলে মন্তব্য করেন উপাচার্য। তার ভাষায়, যারা নিজেদের হাদির অনুসারী বলে দাবি করেন, তাদের অনেকেই আজ দখলদারিত্ব ও ভাগবাটোয়ারার রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। এতে করে হাদির আদর্শ ও সংগ্রামের সঙ্গে বাস্তবতার বড় ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা হাদির জন্য দোয়া করি। আমি আন্তরিকভাবে চাই, হাদির কিছু গুণাবলি যেন বর্তমান তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সঞ্চারিত হয়।”
জুলাই আন্দোলন ও হাদির ভূমিকা
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, হাদি ছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নায়ক। তিনি দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ইনসাফভিত্তিক একটি সংগ্রাম গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন।
অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, হাদি প্রচলিত সামাজিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজব্যবস্থার স্বপ্ন দেখতেন। অল্প বয়সেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে কেবল রাজনৈতিক স্লোগান নয়, গভীর বুদ্ধিবৃত্তিক প্রস্তুতি প্রয়োজন।
তরুণ প্রজন্মের জন্য হাদির শিক্ষা
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, হাদিকে কেবল স্মরণ করাই যথেষ্ট নয়; বরং তার আদর্শ অনুসরণ করাই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। ইতিহাস সম্পর্কে হাদির জ্ঞান ছিল বিস্তৃত, যা অনেক প্রবীণ রাজনীতিবিদের মধ্যেও দেখা যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন রাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, এই দেশে যদি ফ্যাসিবাদ বা আধিপত্যবাদ কায়েমের চেষ্টা করা হয়, তাহলে নতুন করে হাদির মতো প্রতিরোধ গড়ে উঠবে। তিনি জানান, ভয় দেখিয়ে শাসন কায়েমের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ সোচ্চার থাকবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক মো. আখতার হোসেন মজুমদার এবং ছাত্র-উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. আমিরুল ইসলাম কনকসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা।
উপসংহার
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এই আলোচনা সভা হাদির জীবন, আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে। বক্তারা মনে করেন, হাদির স্মৃতি ধরে রাখতে হলে কেবল শোক নয়, বরং তার ইনসাফভিত্তিক দর্শনকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করাই হবে প্রকৃত শ্রদ্ধা।
Source: Based on reporting from আমার দেশ
