শহীদ জিয়ার আদর্শকে অনুসরণ করলে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ও রাষ্ট্র পরিচালনার আদর্শ অনুসরণ করলে বাংলাদেশকে আবারও সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের চিন্তা ও কর্মধারা শুধু একটি দলের নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি কার্যকর দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চিন্তা ও উদ্যোগ নিয়ে পিআইবির প্রকাশিত তিনটি বইয়ের পুনঃপ্রকাশ উপলক্ষ্যে এই সভার আয়োজন করা হয়।

পিআইবির তিনটি বইয়ের নতুন সংস্করণ উন্মোচন

অনুষ্ঠানে জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন উদ্যোগ, ফারাক্কা চুক্তি স্বাক্ষরে তার ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নে তার অবদান নিয়ে প্রকাশিত তিনটি বইয়ের নতুন সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। আয়োজকদের মতে, এসব বইয়ে তৎকালীন সংবাদপত্র ও ঐতিহাসিক নথির আলোকে রাষ্ট্র পরিচালনায় জিয়াউর রহমানের ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে।

সমঝোতার রাজনীতি ও নেতৃত্বের প্রসঙ্গ

আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, জিয়াউর রহমান সমঝোতা ও সহনশীলতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন এবং ভিন্নমতকে সম্মান করতেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, জিয়াউর রহমান যখন রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল চরম সংকটাপন্ন। সে সময় নেতৃত্বের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছে বাংলাদেশ। এ সময়ে শহীদ জিয়ার চিন্তা ও অভিজ্ঞতা বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে পারলে তারা রাষ্ট্র পরিচালনার চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পাবে।

ঐক্য ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রের ওপর গুরুত্ব

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, জিয়াউর রহমান দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিলেন। তিনি সততা ও দুর্নীতিমুক্ত থাকার বিষয়টিকে রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি জাতিকে বিভক্ত না হয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

‘বাংলাদেশপন্থা’ ধারণার আলোচনা

পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ বলেন, জিয়াউর রহমানের চিন্তা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে সে সময় সংবাদপত্রে যে আলোচনা হয়েছিল, তা কেবল দলীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। তার মতে, ‘বাংলাদেশপন্থা’ নামে যে রাষ্ট্রচিন্তার ধারণা বিকশিত হয়েছে, তার সূচনাও জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই।

তিনি আরও বলেন, বিরোধিতার রাজনীতি নয়, বরং মানুষের জন্য ইতিবাচক কী করা যায়—সেটিই হওয়া উচিত রাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি। এই আলোচনায় ব্যবহৃত বইগুলো ভবিষ্যতে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে কাজ করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বক্তব্য ও অংশগ্রহণ

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ, দৈনিক দিনকাল ডিজিটালের নির্বাহী সম্পাদক আতিকুর রহমান রুমন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ইনফরমেশন নেটওয়ার্কের প্রধান সফিকুর রহমান, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ এবং গবেষক ও সাংবাদিক এহসান মাহমুদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ।

উপসংহার

আলোচনায় বক্তারা মনে করেন, ইতিহাস ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জরুরি। শহীদ জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ও রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা নিয়ে এই ধরনের আলোচনা জাতীয় রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

Source: Based on reporting from আমার দেশ

Next Post Previous Post

Advertisement