বিএনপির প্রার্থী ড. জালালের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে চাঁদপুর-২ (মতলব) আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ প্রার্থী ড. মো. জালাল উদ্দিনসহ পাঁচজনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। চলমান অনুসন্ধান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় জনস্বার্থে এই আদেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুদকের তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এই আদেশ দেন। আদালতে দুদকের পক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটরের বক্তব্য শুনে এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে আবেদনটি মঞ্জুর করা হয়।

যাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন—ড. মো. জালাল উদ্দিন, শাহানাজ পারভিন, সাঈদ মোহাম্মদ রিজভী, সাঈদ মোহাম্মদ আলভী এবং আয়েশা তাসিনীমা তানিভী। তাদের সবার বিরুদ্ধেই অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ গোপন ও স্থানান্তরের অভিযোগে অনুসন্ধান চলছে।

দুদক মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজেদের নামে এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে তা বৈধ করার চেষ্টা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে।

মানিলন্ডারিং আইনে অনুসন্ধান

দুদকের মহাপরিচালক জানান, ড. মো. জালাল উদ্দিন এই অভিযোগের মূল ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই অভিযোগে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও চারজনের ভূমিকা তদন্তাধীন রয়েছে।

দুদকের পক্ষ থেকে আদালতে দাখিল করা আবেদনে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দেশত্যাগ করলে অনুসন্ধান কার্যক্রম দীর্ঘায়িত বা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

দেশত্যাগের চেষ্টা ও আদালতের পর্যবেক্ষণ

দুদকের আবেদনে আরও বলা হয়েছে, গোপন সূত্রে জানা গেছে—অভিযুক্তরা বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এমন পরিস্থিতিতে জনস্বার্থ রক্ষায় এবং তদন্তের স্বার্থে তাদের বিদেশ গমন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা জরুরি। এসব যুক্তি বিবেচনায় নিয়ে আদালত দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন।

নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে প্রভাব

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে একজন মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ও আদালতের নিষেধাজ্ঞা রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারবিরোধী অনুসন্ধান রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।

উপসংহার

ড. জালাল উদ্দিনসহ পাঁচজনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার মাধ্যমে দুদকের চলমান অনুসন্ধানে নতুন গতি আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আদালতের এই আদেশ বহাল থাকবে এবং অনুসন্ধানের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ।

Source: Based on reporting from আমার দেশ

Next Post Previous Post

Advertisement