সমঝোতা হলেও এনসিপি প্রার্থীরা শাপলা কলি প্রতীকে নির্বাচন করবে

অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আসন সমঝোতা হলেও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থীরা নিজস্ব প্রতীক ‘শাপলা কলি’ নিয়েই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো অবস্থাতেই এনসিপির কেউ অন্য দলের প্রতীকে নির্বাচন করবে না।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এনসিপির অবস্থান, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন তিনি।

প্রতীক প্রশ্নে এনসিপির অবস্থান স্পষ্ট

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “এনসিপির কোনো প্রার্থী ধানের শীষ বা অন্য কোনো প্রতীকে নির্বাচন করবে না। যদি কারও সঙ্গে আসন সমঝোতা বা আলোচনা হয়, সেক্ষেত্রেও আমরা শাপলা কলি প্রতীকেই নির্বাচন করব।” তাঁর এই বক্তব্যকে দলীয় পরিচয় ও সাংগঠনিক স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার কৌশল হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

এনসিপির নেতারা মনে করছেন, নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচন করলে ভোটারদের কাছে দলের অবস্থান আরও পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে দলীয় ব্র্যান্ড ও পরিচিতি গড়ে তুলতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ভোটের তারিখ নিয়ে অবস্থান ও উদ্বেগ

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, এনসিপি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে। ভোটের তারিখ পেছানোকে তারা সমর্থন করে না। তবে নির্বাচন ঘিরে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা ও উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন ঘটনা, বিশেষ করে শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া এখনো সম্পূর্ণ না হওয়া উদ্বেগজনক। তাঁর মতে, দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে একটি মহল নির্বাচন পেছানোর চেষ্টা করছে।

নিরাপত্তা ও ইসির সক্ষমতা নিয়ে মন্তব্য

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ ও ভারত নির্বাচন ঘিরে পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলেছি, ঘোষিত তারিখ যেন কোনোভাবেই পেছানো না হয়।” একই সঙ্গে তিনি জানান, এনসিপি প্রার্থীদের নির্বাচনি আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনে প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। তিন বাহিনীর সঙ্গে ইসির সমন্বয়ের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি জানান, নিরাপত্তা নিয়ে কিছুটা আশ্বস্ত হলেও মাঠপর্যায়ে এখনও সমস্যা রয়েছে।

মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি ও অভিযোগ

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, বিভিন্ন এলাকায় মনোনয়ন ফরম তুলতে গিয়ে প্রার্থীরা বিশৃঙ্খলার মুখে পড়ছেন। এসব ঘটনা নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে। তাঁর মতে, নির্বাচন ভবনের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার থাকলেও দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক কার্যালয়ে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই।

তিনি জানান, এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন এনসিপিকে আশ্বস্ত করেছে যে, সারাদেশে নিরাপত্তার চাদর আরও বিস্তৃত করা হবে।

উপসংহার

সব মিলিয়ে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এনসিপি তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ও কৌশল স্পষ্ট করছে। নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচন, নির্ধারিত সময়েই ভোট আয়োজন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবির মধ্য দিয়ে দলটি নির্বাচনি মাঠে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চায় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Source: Based on reporting from আমার দেশ

Next Post Previous Post

Advertisement