ভারতে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে আগুন, নিহত ১০

কর্ণাটকে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: স্লিপার বাসে আগুন, অন্তত ১০ যাত্রী নিহত

কর্ণাটক সড়ক দুর্ঘটনা, স্লিপার বাস দুর্ঘটনা, এনএইচ–৪৮ আগুন—ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের চিত্রদুর্গা জেলায় জাতীয় মহাসড়কে ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। একটি স্লিপার বাস ও একটি ট্রাকের সংঘর্ষের পর বাসটিতে আগুন ধরে গেলে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) গভীর রাতে বেঙ্গালুরু–শিবমোগ্গা রুটের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এনএইচ–৪৮-এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, যাত্রীবাহী স্লিপার বাসটি বেঙ্গালুরু থেকে শিবমোগ্গার দিকে যাচ্ছিল। রাতের অন্ধকারে হঠাৎ বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ডিভাইডার টপকে বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

সংঘর্ষের পর মুহূর্তেই আগুন

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাকটির আঘাত বাসটির জ্বালানি ট্যাংকের খুব কাছে লাগে। এতে ডিজেল ছড়িয়ে পড়ে এবং তাৎক্ষণিকভাবে আগুন ধরে যায়। আগুন দ্রুত পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ায় অনেক যাত্রী বের হওয়ার সুযোগ পাননি।

পুলিশ জানিয়েছে, কয়েকজন যাত্রী ভাঙা জানালা বা জরুরি পথ দিয়ে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হলেও অধিকাংশ যাত্রী আগুনের মধ্যে আটকা পড়েন। দমকল বাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই বাসটি সম্পূর্ণভাবে আগুনে পুড়ে যায়।

উদ্ধার তৎপরতা ও প্রশাসনের পদক্ষেপ

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং হাইওয়ে টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক ফায়ার ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়। পরে পোড়া বাসের ভেতর থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। আহত যাত্রীদের নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

চিত্রদুর্গা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে। ট্রাকচালকের গাফিলতি, অতিরিক্ত গতি বা রাতের দৃশ্যমানতা—সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ

এই দুর্ঘটনা আবারও ভারতের মহাসড়কগুলোতে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এনএইচ–৪৮ দক্ষিণ ভারতের একটি ব্যস্ততম মহাসড়ক, যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যান চলাচল করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতের বেলায় ভারী যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং ডিভাইডার নিরাপত্তা জোরদার না করলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যায়।

বাংলাদেশের জন্যও এই ঘটনা একটি সতর্কবার্তা। দেশেও স্লিপার বাস ও দূরপাল্লার যানবাহনে অগ্নিনিরাপত্তা, জ্বালানি ট্যাংকের সুরক্ষা এবং জরুরি বের হওয়ার ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সড়ক নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা।

শেষ কথা

একটি মুহূর্তের দুর্ঘটনা কীভাবে বহু প্রাণ কেড়ে নিতে পারে, কর্ণাটকের এই মর্মান্তিক ঘটনা তারই করুণ উদাহরণ। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক জানানো হয়েছে, পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

Source: Based on reporting from NDTV

Next Post Previous Post

Advertisement