হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে শান্তি ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার আহ্বান তারেক রহমানের

হিংসা, বিদ্বেষ ও আক্রোশ পরিহার করে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সব ধরনের অবিচার ও নির্মমতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্যও তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব বড়দিন উপলক্ষে দেওয়া এক শুভেচ্ছা বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ধর্মীয় সহনশীলতা এবং সামাজিক ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র ও মানবিক সমাজের ভিত্তি। তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বড়দিন উপলক্ষে শুভেচ্ছা ও বার্তা

বাণীতে তারেক রহমান বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি প্রত্যেকের সুখ, শান্তি, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। বড়দিনকে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই দিনটি ক্ষমা, করুণা ও মানবপ্রেমের অনন্য বার্তা বহন করে।

তারেক রহমান বলেন, মহান যীশুখ্রিস্টের জীবন ও আদর্শ মানবসভ্যতাকে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও ন্যায়বোধের পথে পরিচালিত করেছে। মানুষে মানুষে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠাই ছিল তাঁর মূল শিক্ষা, যা আজকের বৈশ্বিক সংকটময় পরিস্থিতিতেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক ঐক্যের ওপর গুরুত্ব

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তার বক্তব্যে বলেন, সব ধর্মের মূল শিক্ষা মানুষের সেবা ও কল্যাণে নিবেদিত। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশ ও জনগণের কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তাঁর মতে, ধর্মীয় পার্থক্য নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধই একটি রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে পারে।

তিনি বাংলাদেশকে একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ দেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ও আনন্দঘন পরিবেশে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে আসছে। এই ঐতিহ্য রক্ষা করা এবং আরও সুদৃঢ় করাই সময়ের দাবি।

হিংসা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে শপথের আহ্বান

তারেক রহমান স্পষ্টভাবে বলেন, “হিংসা-বিদ্বেষ ও আক্রোশ পরিহার করে সমাজে শান্তি ও স্থিতি প্রতিষ্ঠা এবং সব ধরনের অবিচার ও নির্মমতা প্রতিরোধ করতে আমাদের সবাইকে শপথ নিতে হবে।” তিনি বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

বিশ্বব্যাপী চলমান বিভিন্ন সংকটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মানবজাতি আজ নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে মহামানবদের জীবনদর্শন যথাযথভাবে অনুধাবন ও বাস্তবায়ন করা জরুরি। তবেই মানবজীবনে ন্যায়নীতি, শান্তি ও কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

শেষ কথা

বাণীর শেষাংশে তারেক রহমান বড়দিন উপলক্ষে গৃহীত সব ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মসূচির সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন। তাঁর এই বার্তাকে রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি বিভিন্ন মহলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি ইতিবাচক আহ্বান হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।

Source: Based on reporting from আমার দেশ

Next Post Previous Post

Advertisement