বাংলাদেশ-ভারত উত্তেজনা, যা বলছে রাশিয়া

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা যেন আরও না বাড়ে, সে জন্য সংলাপ ও পারস্পরিক আস্থার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে রাশিয়া। ঢাকায় নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন বলেছেন, প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে যেকোনো মতানৈক্য শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের পথ খোঁজাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমান পদক্ষেপ।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) ঢাকায় রাশিয়ান ফেডারেশনের দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সরকারি বার্তা সংস্থা বাসসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, রাষ্ট্রদূত স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে রাশিয়া কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করতে চায় না। তবে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে উত্তেজনা কমানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে হস্তক্ষেপ নয়, আস্থার ওপর জোর

সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত খোজিন বলেন, “বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক তাদের নিজস্ব বিষয়। আমরা এতে হস্তক্ষেপ করছি না। তবে বিদ্যমান পরিস্থিতি যেন আরও জটিল না হয়, সে জন্য পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে সমাধানের পথ অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।” তার মতে, দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা অপরিহার্য।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই বহুমাত্রিক—বাণিজ্য, নিরাপত্তা, পানি বণ্টন এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মতো বিষয় এতে জড়িত। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বক্তব্য ঘিরে যে উত্তেজনার আলোচনা সামনে এসেছে, সে প্রেক্ষাপটেই রাশিয়ার এই মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে রাশিয়ার প্রত্যাশা

রাষ্ট্রদূত খোজিন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন। তিনি নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিলকে স্বাগত জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সময়েই বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে দেশে একটি শান্তিপূর্ণ ও অনুকূল পরিবেশ বজায় থাকবে—এমন প্রত্যাশা রাশিয়ার।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচন আন্তর্জাতিক মহলেও নজর কাড়ছে। বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশের ওপর গুরুত্ব আরোপ করছে। রাশিয়ার বক্তব্যও সেই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের ধারাবাহিক অংশ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠাতে আগ্রহ

নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রুশ রাষ্ট্রদূত জানান, এ বিষয়ে রাশিয়া নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। তবে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পাওয়া গেলে তবেই পর্যবেক্ষক পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে বিভিন্ন দেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অংশ নিয়েছে রাশিয়া। বাংলাদেশেও পর্যবেক্ষক পাঠানো হলে তা নির্বাচনের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার অবস্থান

বাংলাদেশ ও ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বাংলাদেশে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বড় অবকাঠামোগত বিনিয়োগে যুক্ত রয়েছে মস্কো। অন্যদিকে ভারতের সঙ্গেও রাশিয়ার কৌশলগত সম্পর্ক সুদৃঢ়। এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার ‘হস্তক্ষেপ নয়, কিন্তু সংলাপের পক্ষে’ অবস্থানকে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকেরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় বড় শক্তিগুলোর এমন সংযত অবস্থান আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য সহায়ক হতে পারে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে শেষ পর্যন্ত দুই দেশের পারস্পরিক উদ্যোগই মুখ্য ভূমিকা রাখবে।

Source: Based on reporting from বাসস (BSS)

Next Post Previous Post

Advertisement