চার কর্মকর্তার অর্ধ কোটি টাকা ঘুস কারবার

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) ভেতরে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ভবনের নকশা অনুমোদন ও ভূমি ছাড়পত্র দিতে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ঘুস নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংস্থাটির চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে এক গ্রাহককে হয়রানি করে শেষ পর্যন্ত ঘুস আদায়ের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুদক।

চট্টগ্রাম নগর উন্নয়ন ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে এমন অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে নকশা অনুমোদন ও ভূমি ছাড়পত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ নগরবাসীর উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

অভিযানের সময় ও নেতৃত্ব

বুধবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে চার ঘণ্টাব্যাপী এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এর সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম অভিযানের নেতৃত্ব দেন। এ সময় সিডিএ চেয়ারম্যানের দপ্তর, প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করা হয়।

অভিযানকালে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে বলে দুদক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এসব নথি যাচাই করে অভিযোগের পরিধি ও দায় নির্ধারণ করা হবে।

যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

দুদকের অভিযানে যাদের নাম উঠে এসেছে তারা হলেন—সিডিএর ভূমি ছাড়পত্র বিভাগের সহকারী নগর পরিকল্পনাবিদ (এটিপি) কামাল হোসেন, সহকারী অথরাইজড অফিসার-১ ইলিয়াস আকতার, অথরাইজড অফিসার-১ মোহাম্মদ হাসান এবং ডিলিং অ্যাসিস্ট্যান্ট আলমগীর তালুকদার। অভিযোগ অনুযায়ী, এই চার কর্মকর্তা সমন্বিতভাবে ঘুস লেনদেনে জড়িত ছিলেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ ও ঘটনার বিবরণ

দুদক জানায়, হাসান মুরাদ নামে এক ব্যক্তি ২০২৩ সালের ২৩ মে ভূমি ছাড়পত্রের জন্য সিডিএতে আবেদন করেন। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর তিনি ছাড়পত্র পেলেও পরবর্তী ধাপে ভবনের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে জটিলতার মুখে পড়েন। গত বছরের মে মাসে নকশা অনুমোদনের আবেদন করা হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আবেদনকারী ও তার ভাইকে বারবার দপ্তরে ডেকে হয়রানি করেন। ফাইল আটকে রাখা, বিভিন্ন অজুহাতে অভিযান পরিচালনা, এমনকি ভবনের অংশবিশেষ ভেঙে জরিমানা করার ঘটনাও ঘটানো হয়। শেষ পর্যন্ত কৌশলে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ঘুস নেওয়া হলেও নকশার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

দুদকের বক্তব্য ও তদন্ত অগ্রগতি

দুদক জানিয়েছে, ঘুস লেনদেনের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন এবং সংশ্লিষ্ট সকলের বক্তব্য ও নথিপত্র যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিডিএ চেয়ারম্যানের প্রতিক্রিয়া

এ বিষয়ে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম বলেন, অভিযোগগুলো বর্তমান প্রশাসনের আগের সময়কালের। দুদক তদন্ত করছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, “আমি একটি দুর্নীতিমুক্ত সিডিএ গড়ে তুলতে চাই।”

উপসংহার

চট্টগ্রামের নগর উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সিডিএতে এমন অভিযোগ জনআস্থাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। দুদকের চলমান তদন্তে অভিযোগের পূর্ণ সত্যতা উদঘাটিত হলে এটি শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জন্য নয়, পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

Source: Based on reporting from আমার দেশ

Next Post Previous Post

Advertisement