ঢাকায় ৩ জানুয়ারি মহাসমাবেশের প্রস্তুতি জামায়াতের
আগামী ৩ জানুয়ারি রাজধানী ঢাকায় একটি বড় রাজনৈতিক মহাসমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনা এবং কয়েকটি সামাজিক ও রাজনৈতিক দাবিকে সামনে রেখে এই কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা করছে দলটি। নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে সমাবেশ আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্ব।
জামায়াতের দাবি অনুযায়ী, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানানোই হবে এই মহাসমাবেশের মূল লক্ষ্য। দলটির নেতারা বলছেন, এটি কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং জননিরাপত্তা ও সামাজিক সচেতনতার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও তারা সমাবেশটি আয়োজন করতে চান।
সমাবেশের স্থান ও অনুমতি প্রক্রিয়া
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, রাজধানীর মানিকমিয়া এভিনিউ অথবা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে বিভাগীয় কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য মানিকমিয়া এভিনিউয়ে সমাবেশ করা। তবে সেখানে অনুমতি না পাওয়া গেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিকল্পভাবে কর্মসূচি আয়োজন করা হবে।” তিনি আরও জানান, নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন না করেই শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
দলীয় সিদ্ধান্ত ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি
জানা গেছে, সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক বৈঠকে ঢাকায় বড় ধরনের সমাবেশ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে কর্মসূচির বিস্তারিত রূপরেখা প্রকাশ করা হয়নি, তবে ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সমাবেশ সফল করতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে একটি কেন্দ্রীয় বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির অধীনে একাধিক সাব-কমিটিও কাজ শুরু করেছে। মাঠপর্যায়ে জনসংযোগ, পরিবহন ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও প্রচার কার্যক্রম নিয়ে এসব কমিটি নিয়মিত বৈঠক করছে বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় সমাবেশকে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। নির্বাচনি পরিবেশ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক সহিংসতার অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যখন সক্রিয়, তখন জামায়াতের এই কর্মসূচি রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজধানীতে বড় পরিসরের সমাবেশ আয়োজন করতে পারলে তা দলটির সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপও তৈরি করতে পারে। তবে অনুমতি, নিরাপত্তা এবং অংশগ্রহণের মাত্রাই শেষ পর্যন্ত এই কর্মসূচির প্রভাব নির্ধারণ করবে।
শেষ কথা
সব মিলিয়ে, ৩ জানুয়ারির সম্ভাব্য এই মহাসমাবেশকে ঘিরে জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তুতি স্পষ্টভাবে এগোচ্ছে। এখন দৃষ্টি থাকবে প্রশাসনের অনুমতি ও কর্মসূচির চূড়ান্ত ঘোষণার দিকে। রাজধানীর রাজনীতিতে এই সমাবেশ কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সেটিই হবে আগামী দিনের আলোচনার মূল বিষয়।
Source: Based on reporting from আমার দেশ
