দেশের উদ্দেশে বাসভবন ছাড়লেন তারেক রহমান

দীর্ঘ দেড় যুগের নির্বাসিত জীবনের ইতি টেনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অবশেষে দেশের পথে যাত্রা শুরু করেছেন। বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ৮টার দিকে তিনি লন্ডনের বাসভবন থেকে হিথ্রো বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন। তার এই যাত্রা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে, তেমনি দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে উচ্ছ্বাস ও প্রত্যাশা।

লন্ডন বিএনপির এক নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারে দেখা যায়, তারেক রহমানকে বহনকারী গাড়ির সামনে ও পেছনে আরও কয়েকটি গাড়ি ছিল। দলীয় সূত্রের দাবি, এটি ছিল একটি স্বাভাবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ।

ফ্লাইট সূচি ও যাত্রাপথ

বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, তারেক রহমান বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে লন্ডন ছাড়ছেন। এই যাত্রায় তার সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমানসহ পরিবারের মোট পাঁচ সদস্য। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ফ্লাইটটি সিলেটে যাত্রাবিরতির পর বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে।

দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর রজনীগন্ধা লাউঞ্জে প্রায় ২০ মিনিট অবস্থান করবেন তারেক রহমান। সেখানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বৈঠক ও কৌশল বিনিময় করবেন তিনি।

ঢাকায় অভ্যর্থনা ও কর্মসূচি

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দর থেকে সড়ক পথে এভারকেয়ার হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হবেন তারেক রহমান। পথে জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে, যা ৩০০ ফুট সড়ক নামেও পরিচিত, সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে তিনি দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাবেন এবং মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করবেন।

দলীয় নেতারা বলছেন, রাস্তার দুই পাশে লাখো নেতাকর্মী ও সমর্থক তাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত থাকতে পারেন। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মায়ের খোঁজ ও পারিবারিক বিষয়

গণসংবর্ধনার পর তারেক রহমান সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন, যেখানে বিএনপি চেয়ারপারসন ও তার মা বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসাধীন। সেখানে তিনি মায়ের চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করবেন এবং তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেবেন। মায়ের সঙ্গে কিছু সময় কাটানোর পর তিনি গুলশানের বাসভবনের উদ্দেশে রওনা হবেন।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, তিনি গুলশানের ‘ফিরোজা’ বাসভবনে উঠবেন নাকি নিজের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে অবস্থান করবেন—সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

রাজনৈতিক তাৎপর্য ও প্রতিক্রিয়া

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন বিএনপির রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হবে। দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান করলেও তিনি দলীয় সিদ্ধান্ত ও কৌশলে সক্রিয় ছিলেন। সরাসরি দেশে ফিরে তার ভূমিকা আরও দৃশ্যমান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, লন্ডনের বাসভবন ছেড়ে দেশের পথে যাত্রা শুরু করার মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। তার এই প্রত্যাবর্তন আগামী দিনের জাতীয় রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে—সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।

Source: Based on reporting from Amar Desh Online

Next Post Previous Post

Advertisement