নির্বাচনি হলফনামায় সম্পদের যে বিবরণ দিলেন জামায়াত আমির
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ঢাকা-১৫ আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা নির্বাচনি হলফনামায় তিনি নিজের আয়, সম্পদ ও দায়দেনার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন, যা নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী জনসমক্ষে প্রকাশযোগ্য।
নির্বাচনি হলফনামা অনুযায়ী, ডা. শফিকুর রহমানের মোট ঘোষিত সম্পদের আনুমানিক মূল্য এক কোটি ২ লাখ ৭৩ হাজার ৬৪০ টাকা। এতে নগদ অর্থ, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ, কৃষিজমি, স্বর্ণ, শেয়ার এবং ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রীর বিবরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মনোনয়ন দাখিলের আনুষ্ঠানিকতা
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ সময় নির্বাচনি হলফনামাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নির্বাচন কমিশনের কাছে দাখিল করা হয়।
নগদ অর্থ ও স্বর্ণের বিবরণ
হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, ডা. শফিকুর রহমানের হাতে নগদ রয়েছে ৬০ লাখ ৭৬ হাজার ৪৯৭ টাকা। পাশাপাশি তার মালিকানায় রয়েছে ১০ ভরি স্বর্ণ, যার ঘোষিত মূল্য এক লাখ টাকা।
নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, প্রার্থীদের নগদ অর্থ ও মূল্যবান ধাতুর হিসাব আলাদাভাবে উল্লেখ করতে হয়, যা তার হলফনামায় স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
জমি ও আবাসন সম্পদ
স্থাবর সম্পদের হিসাবে ডা. শফিকুর রহমানের নামে রয়েছে ১১ দশমিক ৭৭ শতক জমির ওপর নির্মিত একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি। এর আনুমানিক মূল্য তিনি ২৭ লাখ টাকা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এছাড়া তার মালিকানায় রয়েছে ২ একর ১৭ শতক কৃষিজমি, যার মূল্য ধরা হয়েছে ১৭ লাখ ৭১ হাজার টাকা। কৃষিজমি থেকে তিনি বছরে প্রায় তিন লাখ টাকা আয় করেন বলেও হলফনামায় উল্লেখ আছে।
শেয়ার, বন্ড ও অন্যান্য সম্পদ
হলফনামা অনুযায়ী, ডা. শফিকুর রহমানের নামে বন্ড, ঋণপত্র এবং স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয়—এমন কোম্পানির শেয়ার রয়েছে। এসব আর্থিক সম্পদের মোট মূল্য দেখানো হয়েছে ২৭ লাখ ১৬ হাজার ৮৮০ টাকা।
এছাড়া তার ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য দুই লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী, সাড়ে চার লাখ টাকা মূল্যের একটি যানবাহন এবং দুই লাখ ৪০ হাজার টাকার আসবাবপত্র থাকার তথ্যও হলফনামায় রয়েছে।
ঋণ ও পেশাগত তথ্য
ডা. শফিকুর রহমান হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, তিনি কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করেননি। পেশা হিসেবে তিনি চিকিৎসক উল্লেখ করেছেন।
বর্তমানে তার কাছে থাকা মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৪৭ লাখ ২৫ হাজার ৮৩৪ টাকা, যা নগদ ও চলতি সম্পদের অংশ হিসেবে বিবেচিত।
স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক গুরুত্ব
নির্বাচনী হলফনামায় সম্পদের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া নির্বাচন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশ্লেষকদের মতে, শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের সম্পদের তথ্য প্রকাশ ভোটারদের জন্য প্রার্থীর আর্থিক অবস্থান ও স্বচ্ছতা সম্পর্কে ধারণা পেতে সহায়ক হয়।
ঢাকা-১৫ আসনে ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা ও তার ঘোষিত সম্পদের তথ্য নির্বাচনী আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর এই আসনের নির্বাচনী চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Source: Based on reporting from Amar Desh
