এক সাথে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেন সাঈদীর দুই ছেলে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে একসঙ্গে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন শহীদ মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর দুই ছেলে। সোমবার মনোনয়ন জমার শেষ দিনে পিরোজপুর-১ আসনে মাসুদ সাঈদী এবং পিরোজপুর-২ আসনে শামীম সাঈদী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলার রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) পিরোজপুরের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আবু সাইদের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেন তারা। একই দিনে দুই ভাইয়ের মনোনয়ন দাখিল স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে।

মনোনয়ন দাখিলে দলীয় নেতাদের উপস্থিতি

মনোনয়ন জমাদানের সময় মাসুদ সাঈদী ও শামীম সাঈদীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যক্ষ তাফাজ্জল হোসাইন ফরিদ, সেক্রেটারি অধ্যক্ষ জহিরুল হকসহ দলের শীর্ষ ও স্থানীয় নেতারা। দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি নির্বাচনী প্রস্তুতিতে জামায়াতের সাংগঠনিক সক্রিয়তার ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

পিরোজপুর-১ আসনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

পিরোজপুর-১ আসনটি জামায়াতে ইসলামীর জন্য ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই আসন থেকেই দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী পরপর দুইবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী শুধাংশু শেখর হালদারকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেই রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ধরে রেখে এবার এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামছেন তার ছেলে মাসুদ সাঈদী।

এবার পিরোজপুর-১ আসনে মোট দুইজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। মাসুদ সাঈদীর বিপরীতে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন। ফলে এই আসনে মূল লড়াই বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পিরোজপুর-২ আসনে বহুপক্ষীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা

পিরোজপুর-২ আসনে শামীম সাঈদীর মনোনয়নের পাশাপাশি আরও একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। এই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর ছাড়াও মোট পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের মাঠে প্রকৃত প্রতিযোগিতা হবে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের মধ্যে। স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় সংগঠন, ভোটব্যাংক এবং প্রার্থীদের ব্যক্তিগত পরিচিতি এই আসনের ফলাফলে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

নির্বাচনী রাজনীতিতে পারিবারিক ধারাবাহিকতা

একই পরিবারের দুই সদস্যের একসঙ্গে দুই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাকে রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও ধারাবাহিকতার দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন অনেকে। বিশেষ করে সাঈদীর রাজনৈতিক প্রভাব পিরোজপুর অঞ্চলে এখনো বিদ্যমান থাকায় তার সন্তানদের প্রার্থিতা নির্বাচনী সমীকরণে আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।

স্থানীয় ভোটারদের একটি অংশ মনে করছেন, অতীতের রাজনৈতিক স্মৃতি ও দলীয় পরিচয় ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। আবার অন্য অংশের ভোটাররা প্রার্থীদের ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতাকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন।

আগামী দিনের হিসাব

মনোনয়ন দাখিল পর্ব শেষ হওয়ার পর এখন পিরোজপুরের দুই আসনেই শুরু হবে প্রচার-প্রচারণার মূল পর্ব। নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে প্রার্থীরা কীভাবে ভোটারদের কাছে পৌঁছান এবং স্থানীয় ইস্যুগুলো কতটা গুরুত্ব পায়, সেটিই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Source: Based on reporting from Amar Desh

Next Post Previous Post

Advertisement