নির্বাচন করবো না, সেটা আগে থেকেই সিদ্ধান্ত ছিল: মাহফুজ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন না সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। বিষয়টি নতুন নয়—তার ভাষায়, এই সিদ্ধান্ত তিনি অনেক আগেই নিয়ে রেখেছিলেন। সোমবার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেছেন, নির্বাচন না করার সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।
বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাহফুজ আলম বলেন, শুরু থেকেই তিনি জানিয়ে আসছিলেন যে তিনি নির্বাচনে যাবেন না। তবুও লক্ষ্মীপুর-১ আসন থেকে তার নামে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়। তবে মাহফুজ আলমের দাবি, এটি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের পরিবর্তন নয়, বরং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই বিষয়টি ঘটেছে।
সরকার ছাড়ার কারণ ও নির্বাচন প্রসঙ্গ
সাম্প্রতিক সময়ে মাহফুজ আলমের সরকার থেকে সরে দাঁড়ানো নিয়েও নানা প্রশ্ন ওঠে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি নিজে থেকে সরকার ছাড়তে চাননি। তবে সরকারের পক্ষ থেকে মনে করা হয়েছে, ছাত্র প্রতিনিধিরা যদি প্রশাসনে থাকেন, তাহলে নির্বাচনের সময় নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। সেই বিবেচনায় তাকে দায়িত্ব থেকে সরে যেতে বলা হয়।
মাহফুজ আলমের ভাষায়, “আমি তো শুরু থেকেই বলে আসছি যে, নির্বাচন করবো না। সরকার মনে করেছে, নির্বাচনের পরিবেশ নিরপেক্ষ রাখতে আমাকে সরে যাওয়া উচিত।”
লক্ষ্মীপুর-১ আসন ও পারিবারিক প্রেক্ষাপট
লক্ষ্মীপুর-১ আসনটি নিয়ে আগ্রহের আরেকটি কারণ হলো, মাহফুজ আলমের ভাই মাহবুব আলম ওই আসন থেকে আগেই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। মাহবুব আলম জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক। এ প্রসঙ্গে মাহফুজ আলম বলেন, তার ভাই একজন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং নিজ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি নির্বাচন করবেন। এতে তার কোনো হস্তক্ষেপ বা মন্তব্য নেই।
এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মাহফুজ আলম পরিষ্কারভাবে বোঝাতে চেয়েছেন যে, পারিবারিক সম্পর্ক থাকলেও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে তিনি আলাদা অবস্থান বজায় রাখতে চান।
এনসিপি ও নাগরিক কমিটি থেকে দূরে থাকার ব্যাখ্যা
এর আগে একই দিন ফেসবুকে দেওয়া এক ঘোষণায় মাহফুজ আলম জানান, তিনি শুরু থেকেই নাগরিক কমিটি ও এনসিপি গঠনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এখন আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপির অংশ হচ্ছেন না। এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তার ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মাহফুজ আলম বলেন, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ এক ধরনের “শীতল যুদ্ধের” ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কোনো পক্ষের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না হয়ে নিজের বক্তব্য ও নীতিতে অটল থাকাই সবচেয়ে দায়িত্বশীল অবস্থান বলে তিনি মনে করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাহফুজ আলমের এই অবস্থান মূলত একটি নিরপেক্ষ নাগরিক ভূমিকার ইঙ্গিত দেয়। বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশে যখন বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে অবিশ্বাস ও উত্তেজনা রয়েছে, তখন তার মতো পরিচিত একটি মুখের নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত কিছু ভোটারের কাছে বার্তা দিতে পারে—সবাই ক্ষমতার রাজনীতিতে যুক্ত হতে চান না।
একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত তরুণ ও নাগরিক রাজনীতিতে যুক্ত অংশের মধ্যেও প্রভাব ফেলতে পারে, যারা প্রথাগত দলীয় রাজনীতির বাইরে থেকে ভিন্ন পথ খোঁজার কথা ভাবছেন।
শেষ কথা
সব মিলিয়ে, মাহফুজ আলমের বক্তব্যে একটি বিষয় পরিষ্কার—তিনি আপাতত নির্বাচনী রাজনীতির বাইরে থেকেই নিজের আদর্শিক অবস্থান ধরে রাখতে চান। সামনে রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেদিকেই যাক, তার এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবেই বিবেচিত হবে।
Source: Based on reporting from BBC Bangla and Amar Desh Online
