উত্তরাখণ্ডে মেঘ ভাঙা বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যা: নিখোঁজ ৫০-এর বেশি, উদ্ধার অভিযান চলছ
উত্তর ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যে দুর্যোগময় পরিস্থিতি—মেঘ ভাঙা বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার কবলে পড়ে এখনো নিখোঁজ ৫০ জনের বেশি মানুষ। উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে সেনা ও আধাসামরিক বাহিনীর মাধ্যমে।
উত্তরকাশী জেলার ধরলি গ্রামে ঘটে যাওয়া এই বিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত ৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুসারে, ৪০ থেকে ৫০টি বাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় এক কর্মকর্তা।
তিনি আরও জানান, “ঘটনার তাৎক্ষণিকতা এতটাই ছিল যে, অনেকে বাড়ির ভেতরেই আটকে পড়েন। উদ্ধারকাজে নেমেছে সেনাবাহিনী, এনডিআরএফসহ অন্যান্য দল।”
ধরলি এলাকাটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। সেখানেই রয়েছে বহু হোটেল, রিসোর্ট এবং রেস্তোরাঁ। দুর্ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিশাল এক জলপ্রবাহ ভবনগুলোকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এলাকার বাসিন্দা আস্থা পাওয়ার বলেন, “আমার চোখের সামনে একের পর এক হোটেল পানিতে ভেসে গেছে। কোনো রকম সতর্কতা ছিল না।”
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, ভূমিধস ও হঠাৎ মেঘ ভাঙার ফলে নিকটবর্তী সেনা ক্যাম্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকারীদের একটি দলও বন্যার ধাক্কায় প্রভাবিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ‘মেঘ ভাঙন’ এমন একটি প্রাকৃতিক ঘটনা যেখানে খুব অল্প সময়ে সীমিত অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টিপাত হয়, যা প্রায়ই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার কাজ চলমান রয়েছে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে আকাশ ও স্থলপথে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এই ধরনের দুর্যোগ পূর্বাভাস ও প্রস্তুতির ঘাটতির কারণেই কি ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বাড়ছে? আপনার কী মতামত?
